২০১৭ সালে একটি গোপন তথ্যদাতা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI)-কে জানায় যে, মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত হ্যাকার যুক্ত ছিল। এই তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় (DOJ) শুক্রবার প্রকাশিত একটি নথিতে অন্তর্ভুক্ত, যা এপস্টাইনের মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে প্রকাশিত হয়। নথিতে হ্যাকারটির নাম প্রকাশ না করলেও তার জাতীয়তা ও দক্ষতা সম্পর্কে কিছু বিশদ উল্লেখ রয়েছে।
তথ্যদাতার মতে, হ্যাকারটি ইতালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের একজন বাসিন্দা, যিনি iOS, ব্ল্যাকবেরি এবং ফায়ারফক্স ব্রাউজারের দুর্বলতা অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ। তিনি শূন্য-দিন (zero‑day) এক্সপ্লয়েট এবং আক্রমণাত্মক সাইবার টুলস তৈরি করে বিভিন্ন দেশের সরকারকে বিক্রি করতেন। নথিতে উল্লেখ আছে যে, এই হ্যাকারটি অজানা একটি কেন্দ্রীয় আফ্রিকান সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে এসব সাইবার অস্ত্র সরবরাহ করেছিল।
অতিরিক্তভাবে, তথ্যদাতা জানান যে, হ্যাকারটি হেজবোল্লাহ-কে একটি শূন্য-দিন এক্সপ্লয়েট বিক্রি করে “একটি ট্রাঙ্ক নগদ” পেয়েছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, হ্যাকারটি কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতায় নয়, আন্তর্জাতিক সাইবার বাজারে আর্থিক লেনদেনে ও সক্রিয় ছিল। তবে নথিতে উল্লেখিত সব তথ্যই তথ্যদাতার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে, ফেডারেল ব্যুরোর সরাসরি কোনো নিশ্চিতকরণ নেই।
FBI-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করেনি, এবং ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের জন্য অনুরোধের জবাব দেয়নি। নথির প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে DOJ আরও ৩.৫ মিলিয়ন পৃষ্ঠার অতিরিক্ত নথি প্রকাশের ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে ২,০০০ টিরও বেশি ভিডিও এবং ১,৮০,০০০ টিরও বেশি ছবি রয়েছে, যদিও বেশিরভাগই গোপনীয়তা রক্ষার জন্য লাল চিহ্নিত।
এই নথিগুলি এপস্টাইনের মামলায় নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিক থেকে। হ্যাকারটির পরিচয় ও কার্যক্রমের সঠিকতা যাচাই করতে ফেডারেল ব্যুরো ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন হতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, হ্যাকারকে শূন্য-দিন এক্সপ্লয়েট বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা হলে তা সাইবার সন্ত্রাসবাদের শাস্তি বিধানের অধীনে বিচারযোগ্য হতে পারে। একই সঙ্গে, হ্যাকার ও তার গ্রাহকদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণও অর্থনৈতিক অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
এই তথ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া জরুরি। এপস্টাইনের মামলায় ইতিমধ্যে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিগুলি বহু বিচারিক ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, এবং নতুন নথি এই প্রশ্নগুলিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতে ফেডারেল ব্যুরো ও ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত স্পষ্টীকরণ ও আপডেটের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে হ্যাকারদের কার্যক্রম রোধ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের তদন্তের ফলাফল কেবল এপস্টাইনের মামলায় নয়, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মোকাবেলায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



