ঢাকার ওয়ারির পাস্তা ক্লাব হোটেলের প্রথম তলায় রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পিজা ওভেন থেকে বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলটি ওয়ারি থানা-র কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে রেস্টুরেন্টের কর্মীরা রাতের খাবার প্রস্তুত করছিল। বিস্ফোরণের ফলে তৎক্ষণাৎ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা আশেপাশের গৃহস্থালির জানালায় ঝলকানি ফেলেছিল।
বিস্ফোরণে মোট আটজন কর্মচারী গা জ্বালেন। তাদের নাম ও বয়স হল: জাশিম (২৮), কামরুল (৩২), মোস্তাফা (২৭), শাহ আলম (৩০), ইউসুফ (২১), মেহেদি (৩০), আবির (২৪) এবং সোরভ (২৫)। সবাই রেস্টুরেন্টের কর্মী হিসেবে কাজ করছিল এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদেরই দায়িত্বে ছিল।
আহতদের অবস্থা তীব্র জ্বালার কারণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনীয় ছিল। আহতদের দ্রুতই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জ্বালার মাত্রা নির্ণয় করে, প্রয়োজনীয় দাগের যত্ন ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন ডি.এম.সি.এইচ. পুলিশ আউটপোস্টের ইনস্পেক্টর মো. ফারুক। তিনি জানান, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে জ্বালার গভীরতা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। হাসপাতালে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদেরকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
অগ্নি সেবা ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বে ছিলেন রশিদ বিন খালিদ, যিনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার। তিনি জানান, সন্ধ্যা ১০:৩৫ টায় সুত্রাপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ারফাইটাররা দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ১১:০০ টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ নিভিয়ে দেয়।
অগ্নি দমনের পরপরই স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ওভেনের বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্ট সার্কিটের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি রেস্টুরেন্টের পুরনো যন্ত্রপাতি ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের ফলে হতে পারে।
পুলিশের তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ওভেনের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ডে কোনো সাম্প্রতিক মেরামত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নথি নেই। এছাড়া, রেস্টুরেন্টের মালিক ওয়ারি থানা-র কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অনুমোদন পত্রের কপি প্রদান করেননি বলে জানা গেছে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অগ্নি সেবা ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফটোগ্রাফ, ভিডিও ও ইলেকট্রনিক ডেটা রেকর্ড করে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য রেস্টুরেন্টের বৈদ্যুতিক সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন ও সংশোধন কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দুর্ঘটনা ঘটার সময় রেস্টুরেন্টের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ না করা হলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত তদন্ত চলমান, এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনার পর, ওয়ারি এলাকার বাসিন্দা ও রেস্টুরেন্ট কর্মীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনও রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য ত্বরিত নির্দেশ জারি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটে।



