শুক্রবার কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক দল (JNP) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ মিডিয়া নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল—সময় টেলিভিশন, একাত্তর টেলিভিশন ও ডিবিসি—কে বিএনপি‑দক্ষিণের ঠিকাদার বলে অভিযুক্ত করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের সামনে তিনি প্রথমে মিডিয়ার দ্বিমুখী আচরণকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন মানুষের সম্মতি তৈরি করতে সূক্ষ্মভাবে কাজ করছে, কিন্তু একই সময়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দুই ভাগে বিভক্ত”। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হাসনাতের মতে, বিশেষ করে জুলাই মাসে সক্রিয় ছিল এমন সময়, একাত্তর ও ডিবিসি, যা আগে বিএনপির বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করত, এখন তাদের দিক পরিবর্তন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গত সতেরো বছর ধরে এই চ্যানেলগুলো টক শো ও সংবাদে তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে চিত্রিত করত, আর এখন তারা বিএনপির কোলে বসে আছে”।
তিনি আরও সতর্ক করেন, “কয়েক দিনের মধ্যে এই মিডিয়া আপনারা—বিএনপি—কে পিঠে ছুরি মারার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে”। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মিডিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক ভূমিকা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
হাসনাতের কথায় উল্লেখ করা হয় যে, সংবাদ সংস্থার হেড অব নিউজ ও চিফ এডিটররা কখনও কখনও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরকে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা আমাদের দুঃখ‑দুর্দশার কথা জানায়, কিন্তু তাদের নিজস্ব এডিটোরিয়াল নীতি বাধা দেয়”।
একাত্তর টেলিভিশনের মালিকের ব্যাপারে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গত সতেরো বছর ধরে এই মালিক জামায়াত‑শিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন”। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মিডিয়া ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করেন।
এরপর তিনি উল্লেখ করেন, “একাত্তরের মালিক এখন তারেক রহমানের অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গেছেন”। এই পরিবর্তনকে তিনি “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে বর্ণনা করেন এবং মিডিয়ার স্বার্থপরতা ও রাজনৈতিক সংযোগের প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসনাতের মতে, ভবিষ্যতে যে বিপ্লব ঘটবে, তা হবে দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রাম। তিনি দৃঢ়ভাবে বলছেন, “ইনশাল্লাহ, আগামীর বিপ্লব দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে হবে”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মিডিয়া সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
তিনি প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আহ্বান জানান। “এই নির্বাচনের সময় পুলিশ, প্রশাসন ও মিলিটারি আপনারা জনগণের বন্ধু হোন, কোনো দলের নয়” তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ২০ কোটি দেশের নাগরিকের সেবা করার দায়িত্বকে তুলে ধরেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা ও সমর্থকরা হাসনাতের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে মিডিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা দাবি করেন। তবে সময়, একাত্তর ও ডিবিসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের মিডিয়া-রাজনীতি সম্পর্কের টান আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক দল (JNP) প্রার্থী হিসেবে হাসনাতের অবস্থানকে এই মন্তব্যগুলো শক্তিশালী করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সমাবেশে মিডিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন স্পষ্ট হয়েছে। এই বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



