সুইস পরিচালক পেট্রা ভলপের নতুন ইংরেজি‑ভাষার চলচ্চিত্র ‘Frank & Louis’ সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রাথমিক প্রদর্শনী পেয়েছে। কিংসলি বেন‑আদির এবং রব মরগ্যানের প্রধান ভূমিকায়, চলচ্চিত্রটি পুরুষ বন্দীদের একটি কারাগারে স্থাপিত, যেখানে বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদী সাজা ভোগ করছেন এবং বয়স্কদের জন্য বিশেষ সেল ব্লক রয়েছে।
এই সেল ব্লকে ডিমেনশিয়া ও পার্কিনসন রোগের মতো স্নায়ুজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বন্দীরা একত্রে থাকেন, যা গল্পের মঞ্চকে স্বতন্ত্র করে তোলে। সাধারণভাবে কারাগারের শাসন, হিংসা ও ক্ষমতার লড়াইয়ের বদলে, চলচ্চিত্রটি মানবিক যত্নের মূল্য ও তা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর পারস্পরিক সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে।
কিংসলি বেন‑আদির অভিনীত ফ্র্যাঙ্ক, পারোল শুনানির জন্য স্বাস্থ্যসেবা কাজের মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহের পরিকল্পনা করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার স্বার্থপরতা বদলে যায়, এবং তিনি রোগী ও সহবন্দীদের প্রতি সহানুভূতি গড়ে তোলেন, যা তাকে নতুন উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য মুক্তির পথে নিয়ে যায়।
ফ্র্যাঙ্কের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি দয়া, মর্যাদা ও মানবিক সংযোগের সন্ধানকে তুলে ধরে। যত্নের কাজকে কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এক ধরনের উপহার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই সমৃদ্ধি লাভ করে।
পেট্রা ভলপে এই কাজের সঙ্গে জার্মান লেখক এসথার বার্নস্টর্ফের সহযোগিতা করেছেন। দুজনের যৌথ রচনায় চরিত্রের মানসিক গভীরতা ও পরিবেশের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট হয়। ভলপের পূর্ববর্তী কাজ ‘Late Shift’ ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অস্কার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল, যা একটি ব্যস্ত হাসপাতালের নার্সের দৈনন্দিন সংগ্রামকে চিত্রিত করেছিল।
‘Late Shift’ এ ভলপে রোগীর যত্ন ও কর্মস্থলের চাপের মধ্যে মানবিক দিকটি তুলে ধরেছিলেন; ‘Frank & Louis’ তে তিনি একই সংবেদনশীলতা কারাগারের পরিবেশে স্থানান্তরিত করেছেন। উভয় চলচ্চিত্রেই সামাজিক প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে দৃশ্যমান করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের কাস্টে রেনে পেজ জোগলার, রোজালিন্ড এলেজার, ইন্দিরা ভার্মা এবং কালাম ম্যাকফারসনসহ বহু পরিচিত নাম যুক্ত হয়েছে। প্রত্যেক অভিনেতা নিজ নিজ চরিত্রে স্বতন্ত্র রঙ যোগ করেছেন, যা গল্পের বাস্তবতা বাড়িয়ে তুলেছে। প্রধান দুই চরিত্রের পাশাপাশি পার্শ্বিক ভূমিকাগুলোও সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
‘Frank & Louis’ মোট ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের দৈর্ঘ্যের, ইংরেজি ভাষায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। সীমিত স্থান ও চরিত্রের কারণে এটি নাট্যরূপে রূপান্তরিত করা সহজ হতে পারে, তবে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারের কল্পনা এটিকে চলচ্চিত্রের বিশেষ শৈলীতে রূপান্তরিত করেছে।
চিত্রগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিথ কাউফম্যানের ক্যামেরা কাজ চলচ্চিত্রকে গতিশীলতা প্রদান করেছে। তরল ট্র্যাকিং শটের মাধ্যমে ক্যামেরা ফ্র্যাঙ্কের চলাচল অনুসরণ করে, যা দর্শকের জন্য অভিজ্ঞতাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলেছে। দৃশ্যগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে ধারণ করে, কারাগারের কঠোর পরিবেশকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিনয় ক্ষেত্রে বেন‑আদির ও মরগ্যানের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। উভয়ই জটিল চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সমগ্র কাস্টের সমন্বিত কাজ চলচ্চিত্রকে আবেগময় ও বোধগম্য করে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, ‘Frank & Louis’ একটি সংযত কিন্তু প্রভাবশালী চলচ্চিত্র, যা মানবিকতা ও সহানুভূতির বার্তা বহন করে। সান্ডান্সে তার প্রিমিয়ার দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং চলচ্চিত্রের থিম ও অভিনয়কে উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক বিষয়ক চলচ্চিত্রের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা যায়।



