রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে নয়টায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংস্কার বিষয়ক প্রশ্নে দল কোনো গোপনীয়তা রাখেনি বলে জোর দিয়ে বললেন। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বিএনপি যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে, তা রক্ষা করা দেশের নৈতিক দায়িত্ব এবং ১,৪০০ শহীদ, যার মধ্যে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিম অন্তর্ভুক্ত, তাদের স্বপ্নকে সম্মান করা মানে এই সনদকে রক্ষা করা।
সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, সভার সভাপতিত্ব করেন। তারেকের বক্তব্যের সময় তিনি রংপুরের শহীদদের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়ে, জনগণকে সামনের কাতারে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সামনের কাতারে দাঁড়ানো মানে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া।
তারেক বলেন, “যদি আমরা পরিবর্তন বজায় রাখতে চাই, তবে প্রত্যেক নাগরিককে ঘর থেকে বের হয়ে ভোটের অধিকার ব্যবহার করতে হবে।” তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকী ভোটের পাশাপাশি সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তদুপরি, ভোটের দিন কোনো ষড়যন্ত্র না ঘটতে পারে তা নিশ্চিত করতে, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার গুরুত্বেও তিনি জোর দেন।
বক্তা জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল, তাদের মন্ত্রীও ছিল। তখন আমরা ভালো ছিলাম, এখন নাকি খারাপ? প্রশ্ন হলো—আমরা যদি খারাপই হই, তাহলে তারা কেন পাঁচ বছর আমাদের সঙ্গে ছিল?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অতীতের জোটের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রশ্ন তুলেছেন।
তারেক সব ধর্মের ভোটারদের—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—ভোরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ হয়েছে; এখন প্রত্যেকের অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করা দরকার।” এভাবে তিনি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তারেকের মন্তব্যে বলা হয়, যদিও অনেকেই রংপুরকে গরিব অঞ্চল বলে মনে করেন, তবু এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে প্রচুর কয়লা ও কৃষিজাত সম্পদ রয়েছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, রংপুর বিভাগে কৃষি-ভিত্তিক পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করমুক্তি দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এই উদ্যোগগুলোকে তিনি রংপুরের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সারসংক্ষেপে, তারেকের বক্তব্য রংপুরের জনসাধারণকে সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা সত্যিকারের পরিবর্তন চাই, তবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হল সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে, সঠিকভাবে ভোট দেওয়া এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করা।”



