প্যালেকেলে অনুষ্ঠিত প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১১ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে। শ্রীলঙ্কা ১৬.২ ওভারে ১৩৩ রান করে আটকে যায়, আর ইংল্যান্ডের সাম কার্রান হ্যাট-ট্রিক ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। এই জয় ইংল্যান্ডকে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ অগ্রগতি এনে দেয় এবং আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে।
শ্রীলঙ্কা শুরুর সাত ওভারে ৭৬-১ স্কোরে দ্রুত অগ্রসর হয়, তবে স্পিনের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের গতি ধীর হয়ে যায়। লেগ-স্পিনার আদিল রাশিদ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয় এবং ম্যাচের মানচিত্র পরিবর্তন করে। রাশিদের পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সাম কার্রান হ্যাট-ট্রিকের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়। প্রথমে তিনি ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকাকে মিড-অফে ক্যাচ করে আউট করেন, এরপর মাহীশ থিকশানা সরাসরি লং-অন থেকে আউট হন এবং শেষের উইকেটটি তিনি মথীশা পাথিরানার ওপর ঝুঁকে নেন। এই তিনটি উইকেট শ্রীলঙ্কার স্কোরকে ১২৯ থেকে ১৩৩ পর্যন্ত দ্রুত কমিয়ে দেয়, যেখানে শেষ দুই ব্যাটসম্যান মাত্র চার রান যোগ করতে পারে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ফিল সল্টের দ্রুত ৪৬ রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ৩৫ ball-এ ৪৬ রান করে শ্রীলঙ্কার আক্রমণকে থামাতে সাহায্য করেন। টম ব্যান্টনও ১৫ ball-এ ২৯ রান করে তিনটি চতুর্থ এবং দুইটি ছয়ের মাধ্যমে স্কোরে ত্বরান্বিত করেন, যা ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুক ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছিলেন, দলটি রাতের শেষ পর্যন্ত সঠিক পরিকল্পনা মেনে চলেছে এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি সঠিক পথে রয়েছে। ব্রুকের মতে, সাম কার্রানের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসনীয়, কারণ তিনি কঠিন শুরুর পর দ্রুত ফিরে এসে দলকে জয় নিশ্চিত করেছেন।
বৃষ্টির হুমকি সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়, কারণ ডিএলএস গণনা অনুযায়ী তারা ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত রানে এগিয়ে ছিল। শেষ দুই ওভারে ছয়টি উইকেট রেখে মাত্র নয় রান দরকার ছিল, তখন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ম্যাচটি বন্ধ হয়ে ডিএলএস অনুযায়ী ইংল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
এই জয় ইংল্যান্ডকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে এক-শূন্য অগ্রগতি দেয় এবং পরবর্তী দুই ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। উভয় দলই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই সিরিজকে ব্যবহার করবে, যেখানে শ্রীলঙ্কা পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে এবং ইংল্যান্ড শীর্ষস্থান বজায় রাখতে চায়।



