ঢাকার ওয়ারি এলাকায় শুক্রবার রাত প্রায় ১০টায় পাস্তা ক্লাব নামের রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় আটজন কর্মচারী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে আশেপাশের দোকানগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
রেস্তোরাঁটি ওয়ারি রোডের তৃতীয় তলার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণই মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে ক্যাশিয়ার শাহ আলাম (৪৫), কর্মী ইউনুস (৩০), এবং তরুণ কর্মচারী সৌরভ (২৫), মেহেদি (২৫), মোস্তফা (২৭), আবির (২২), জসিম (২৮) ও কামরুল (২০) অন্তর্ভুক্ত। সকলকে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পৌঁছানোর পর রোগীদের অবিলম্বে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ইউনিটের আবাসিক সার্জন হারুনুর রশিদ জানান, দুইজন রোগী জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অবশিষ্ট ছয়জন রোগীকে তীব্র পর্যবেক্ষণ ও শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা বিভাগে উপস্থিত পুলিশ ইনস্পেক্টর মো. ফারুক জানান, রোগীদের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও আগ্নেয় নিরাপত্তা বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। গ্যাস সিলিন্ডারের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ওয়ারি এলাকার ব্যবসায়িক নিরাপত্তা তদারকি করার দায়িত্বে রয়েছে এবং তারা এই ঘটনার পর পুনরায় নিরাপত্তা পরিদর্শন চালু করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমে জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্মীদের সহায়তা করেন এবং পরবর্তীতে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের মতে, তদন্তের ফলাফল জানার পর গ্যাস সরবরাহকারী ও রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্যাস সিলিন্ডারের নিয়মিত পরীক্ষা ও সঠিক সংরক্ষণ নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ও কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা জরুরি।
ঘটনা সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের কাছে জানাবে।



