লস এঞ্জেলেসে তার বাড়িতে শুক্রবার ক্যাথরিন ও’হারা ৭১ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর ঘটেছে এবং সিএএ প্রতিনিধিরা তা নিশ্চিত করেছেন। ও’হারা একজন বিশিষ্ট কমেডি অভিনেত্রী, যিনি দুইবারের এমি পুরস্কারধারী ছিলেন।
১৯৫৪ সালের ৪ মার্চ টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা ও’হারা ২০ বছর বয়সে কানাডার সেকেন্ড সিটি থিয়েটারে যোগ দেন। প্রথমে গিল্ডা রেডনারের অধীনস্থ অনুশীলনকারী হিসেবে কাজ করেন, পরে রেডনার স্যাটারডে নাইট লাইভে চলে যাওয়ার পর মূল কাস্টে অন্তর্ভুক্ত হন। এই সময়ে তিনি নাট্য ও কমেডি দক্ষতা শাণিত করেন, যা পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
১৯৭৬ সালে সিএসটিভি (SCTV) শোটি গ্লোবাল নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত হয়, যেখানে ও’হারা জন ক্যান্ডি, ইউজিন লেভি, রিক মোরানিসসহ বহু প্রতিভাবান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন। শোটি পরবর্তীতে এনবিসি-তে স্থানান্তরিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ও’হারা তার সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল কাস্ট সদস্য হিসেবে স্বীকৃত হন, এবং শোয়ের লেখক-অভিনেতা উভয় ভূমিকায় অবদান রাখেন।
১৯৯০-এর দশকে তিনি ‘হোম আলোন’ সিরিজে কেট রাইডার চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে তিনি কেভিন (ম্যাকলয় কুলকিন) এর মা হিসেবে দর্শকের হৃদয় জয় করেন। এই ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে এবং কমেডি জগতে তার অবস্থান দৃঢ় করে। চলচ্চিত্রের সাফল্য তার ক্যারিয়ারকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক দশকে ও’হারা শিটস ক্রিক (Schitt’s Creek) সিরিজে ময়রা রোজ চরিত্রে ফিরে আসেন, যা তাকে ২০২০ সালে এমি পুরস্কার এনে দেয়। এই সিরিজে তার পারফরম্যান্স সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং তার ক্যারিয়ারে নতুন উত্থান ঘটায়। এছাড়া তিনি ‘দ্য স্টুডিও’ তে কমেডি ভূমিকায় অভিনয় করে গত বছর এমি নামांकन পেয়েছিলেন।
ও’হারা ১৯৮২ সালে সিএসটিভি নেটওয়ার্কের জন্যও এমি জিতেছিলেন এবং মোট আটটি অতিরিক্ত নামांकन অর্জন করেন, অভিনয় ও লেখালেখি উভয় ক্ষেত্রেই। ২০২৫ সালে তিনি এইচবিওর ‘দ্য লাস্ট অফ আস’ সিরিজে নাটকীয় গেস্ট অভিনেত্রী হিসেবে এবং ‘দ্য স্টুডিও’ তে কমেডি পারফরম্যান্সের জন্য একই সঙ্গে দু’টি এমি নামांकन পেয়ে দ্বিগুণ মনোযোগ অর্জন করেন। এই স্বীকৃতিগুলি তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।
মৃত্যুর আগে ও’হারা লস এঞ্জেলেসে তার ব্যক্তিগত বাড়িতে বিশ্রাম নিতেন। সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবার ও শিল্প জগতের বহুজন শোক প্রকাশ করে। সিএএ প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার অবদানকে স্মরণীয় করে তোলেন।
ক্যাথরিন ও’হারা কমেডি ও নাটকের জগতে এক অনন্য ছাপ রেখে গেছেন। টরন্টোর স্থানীয় থিয়েটার থেকে আন্তর্জাতিক স্ক্রিনে তার যাত্রা বহু প্রজন্মের শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণা। তার স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীলতা ও দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে রয়ে যাবে।



