এই বছর অস্কার জ্যুরি এমন চলচ্চিত্রগুলোকে পুরস্কার দিল যা ১৯৭০‑এর দশকের বিদ্রোহী চেতনা পুনরুজ্জীবিত করেছে। জ্যুরির পছন্দে প্রধানত স্বাধীন, ঝুঁকি‑গ্রহণকারী নির্মাতাদের কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে বড় স্টুডিওর প্রচলিত সিক্যুয়েল ও ফ্র্যাঞ্চাইজের চেয়ে স্বতন্ত্র কাহিনীর মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বহু প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রই প্যারামাউন্টের বিতরণে প্রকাশিত, তবে তারা ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক মডেল থেকে বিচ্যুত হয়েছে। “সিনার্স”, “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার”, “হ্যামনেট”, “মার্টি সুপ্রিম” এবং “বুগোনিয়া” নামের ছবিগুলোই এই প্রবণতার উদাহরণ, যেখানে কোনো সিক্যুয়েল, ফ্র্যাঞ্চাইজ বা শেয়ার্ড ইউনিভার্সের ইঙ্গিত নেই।
এই চলচ্চিত্রগুলোকে সমর্থনকারী মূল ব্যক্তিত্ব হলেন একসময় প্যারামাউন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এখন প্রযোজক বব ইভান্স। তিনি ড্যারিল জ্যানাকের সঙ্গে কাজের সময় শিখেছিলেন যে অভিনেতা ও প্রযোজকের স্থিতিস্থাপকতা শিল্পে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। ইভান্সের স্বতঃস্ফূর্ত, ঝুঁকি‑গ্রহণকারী পদ্ধতি আজকের অস্কার প্রার্থীদের সৃজনশীল দিককে প্রভাবিত করেছে।
অস্কার জ্যুরি এই বছর আধুনিক হলিউডের প্রচলিত নীতিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পূর্বাভাসের বিপরীতে, “উইকেড: ফর গুড” এবং সর্বশেষ “লর্ড অফ দ্য রিংস” ধারাবাহিকের অংশগুলো কোনো শীর্ষ পুরস্কারে নামেনি। একইভাবে, জেমস ক্যামেরনের “অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ” সিরিজের প্রথম অংশও সেরা ছবির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা ফ্র্যাঞ্চাইজের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
এর পরিবর্তে জ্যুরি এমন চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে যেগুলো সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি এবং কঠিন বাস্তবতা উপস্থাপন করে। অতীতের ফ্রেডি কোপোলা, মার্টিন স্করসেসি, রোমান পোলানস্কি, ডেভিড ফ্রাইডকিন এবং সিলভেস্টার লুমেটের মতো দিগন্তের পরিচালকরা যখন স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছিলেন, তখনই তাদের কাজকে আজকের জ্যুরি প্রশংসা করেছে।
নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের মধ্যে ড্যানি সাফডি, পি.টি.এ., রায়ান কোগলার, চেন ঝাও এবং ইয়োরগোস লান্থিমোসের নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের চলচ্চিত্রগুলোও অস্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা পুরাতন ও নতুন উভয় প্রজন্মের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে স্বীকৃতির মঞ্চে আনা হয়েছে।
চলচ্চিত্র “সিনার্স” একটি সামাজিক অশান্তির সময়ের গল্প বলে, যেখানে নায়কের নৈতিক দ্বন্দ্বকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই কাজটি জ্যুরির দৃষ্টিতে সাহসী বর্ণনা এবং বাস্তবিক চিত্রায়নের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।
“ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” যুদ্ধের পরিণতি এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে আধুনিক দৃষ্টিকোণ যোগ করে, যা জ্যুরির দৃষ্টিতে তাজা ও প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়েছে।
“হ্যামনেট” শেক্সপিয়ারের অনুপস্থিত কন্যা চরিত্রের কল্পনাপ্রসূত পুনর্গঠন, যেখানে আধুনিক সমাজের প্রশ্নগুলোকে ঐতিহাসিক কাঠামোর সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়েছে। এই সৃজনশীল পদ্ধতি অস্কার জ্যুরির দৃষ্টিতে উদ্ভাবনী হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
“মার্টি সুপ্রিম” একটি কমেডি-ড্রামা, যা শিল্প জগতের অস্থিরতা ও সৃজনশীল স্বাধীনতার সংগ্রামকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। জ্যুরি এই কাজকে শিল্পের স্বতন্ত্রতা রক্ষার প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
“বুগোনিয়া” একটি পরিবেশগত থ্রিলার, যেখানে মানব ও প্রকৃতির সম্পর্কের জটিলতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের দৃশ্যমানতা এবং বর্ণনামূলক গভীরতা অস্কার জ্যুরির দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই বছর অস্কার জ্যুরি এমন একটি প্রবণতা প্রকাশ করেছে যেখানে বড় স্টুডিওর বাণিজ্যিক চাপের বদলে স্বতন্ত্র, সাহসী এবং সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক চলচ্চিত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করবে।



