দুপুরের শেষের দিকে, নোয়াখালী জেলার হাটিয়া উপজেলায় নালচিরা ঘাটে একটি ফেরি সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় বিএনপি ও ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) কর্মীদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়, যার ফলে অন্তত বারোজন আহত হয়। সংঘর্ষটি বিকাল ৪:৩০ থেকে ৫:০০ টার মধ্যে ঘটেছে এবং স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিপিং সেক্রেটারি নুরুন নাহার চৌধুরী “মহানন্দা ফেরি সেবা” চালু করেন, যা নালচিরা ঘাট-চেয়ারম্যান রুটে চালু হবে। এই সেবার উদ্বোধন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের পর, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) নেতা আবদুল হান্নান মাসুদের সমর্থকরা তার এই সেবা আনার ভূমিকা তুলে ধরে স্লোগান গাইতে শুরু করে। একই সময়ে, বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামিমের সমর্থকরা এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা স্লোগান গাইতে থাকে।
স্লোগানবাজি দ্রুত তর্কে রূপান্তরিত হয়, দুই দলের মধ্যে মৌখিক ঝগড়া বাড়ে এবং শেষে গুলি-ধাক্কা, ইট-পাতা নিক্ষেপের মতো শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়। নালচিরা ঘাটের এক বাসিন্দা জিল্লুর রহমানের মতে, উভয় পক্ষই ইট ও পাথর নিক্ষেপ করে, যার ফলে আহতের সংখ্যা বাড়ে।
আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হালকা থেকে মাঝারি আঘাতের শিকার হয় এবং হাটিয়া আপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, আহতদের মধ্যে কিছুতে মাথায় আঘাত এবং হাড় ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে জরুরি সেবা দ্রুত প্রদান করা হয়েছে।
ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) নেতা আবদুল হান্নান মাসুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার সমর্থকদের ওপর আক্রমণকারী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি-র নোয়াখালী-৬ নম্বরের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামিমও ঘটনায় তার মন্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের দলের সদস্যরা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) সমর্থকদের দ্বারা আক্রমণ করা হয়। শামিম তৎক্ষণাৎ দায়ীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
হাটিয়া থানা অফিসার-ইন-চার্জ মো. সাইফুল আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গশত রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৭-৮ জনের বেশি আহত হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে নোয়াখালী অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। উভয় দলের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের ধারাবাহিকতা নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) ও বিএনপি-র প্রার্থী-প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হল পরিস্থিতি শান্ত করা এবং পুনরায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। উভয় দলই আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় ভবিষ্যতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।



