ফরাসি ফরোয়ার্ড থিয়ের্নো ব্যারি এভারটন ক্লাবের মূল আক্রমণকারী হিসেবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক গোলের মাধ্যমে দলকে ১০তম স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে চারটি গোলের অবদান এভারটনের র্যাঙ্কিংকে উঁচুতে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘ ও উত্থান-পতনের পূর্ণ গল্প।
ব্যারির পেশাদার যাত্রা শুরু হয় বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগে বিয়ারভেনে, যেখানে তিনি সহজেই বিশটি গোলের রেকর্ড গড়ে তোলেন। এই সাফল্য তাকে সুইজারল্যান্ডের বাসেল ক্লাবে স্থানান্তরিত করে, তবে সেখানে তার প্রথম দুই ম্যাচেই দুটো লাল কার্ডের কারণে সমস্যার মুখোমুখি হন। বাসেলে ১৬টি লিগ ম্যাচে কোনো গোল না করে তিনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এবং ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহও কমে যায়।
আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যারি আফ্রিকায় রওনা হন এবং জাঞ্জিবারের সমুদ্রতটে দশ বছর বয়সী কিছু শিশুর সঙ্গে ফুটবল খেলেন। সমুদ্রের হাওয়া ও শিশুরা তাকে আবার বলের স্পর্শে আনন্দ অনুভব করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “বালিতে খেলতে গিয়ে আবার বলের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করেছি, যা আমাকে নতুন করে ফুটবলে ফিরে আসতে সাহায্য করেছে।”
বালিতে কাটানো এই সময়ের পর তিনি বাসেলে ফিরে আসেন, কিন্তু এখন তিনি পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মনোভাব নিয়ে মাঠে নামেন। তার এই পরিবর্তন দ্রুতই ফল দিতে শুরু করে; মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি নয়টি গোল করে নিজের নাম উজ্জ্বল করেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে স্প্যানিশ ক্লাব ভিলারিয়াল তার দিকে নজর দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এভারটনের জন্য ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি সম্পন্ন হয়।
ইংল্যান্ডে প্রথমে ব্যারির সূচনা কঠিন ছিল। প্রিমিয়ার লিগে ডেবিউ করার পর তিনি ১৬টি ম্যাচে কোনো গোল করেননি এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক শটও নেননি। তবে ক্লাবের প্রধান কোচ ডেভিড ময়েসের অবিচল সমর্থন তাকে ধৈর্য্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ময়েসের বিশ্বাসের ফলে ব্যারি শেষ পর্যন্ত মাঠে নিজের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন।
প্রশিক্ষণ মাঠে ফিনচ ফার্মে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ব্যারি তার বর্তমান ফর্ম নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি আবার গোল করার সুযোগ পেয়েছি এবং দলকে জয়ী করতে চাই।” এই আত্মবিশ্বাসই তার সাম্প্রতিক চারটি গোলের মূল কারণ।
এভারটন বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে দশম স্থানে রয়েছে, এবং ব্যারির গোলের ধারাবাহিকতা দলকে উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তার উপস্থিতি আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে কোচের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্যানদের কাছেও ব্যারির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্টেডিয়ামের সেকশনগুলোতে তার নামের চিৎকার শোনা যায় এবং সামাজিক মাধ্যমে তার গোলের ভিডিও দ্রুত শেয়ার হয়। এই সমর্থন ব্যারিকে আরও উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের জন্য উৎসাহিত করে।
পরবর্তী ম্যাচে এভারটন ব্রাইটনকে স্বাগতম জানাবে, যেখানে ব্যারির উপস্থিতি আক্রমণকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ ময়েসের পরিকল্পনায় ব্যারি কেন্দ্রীয় আক্রমণকারী হিসেবে খেলবে এবং তার গতিশীলতা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করবে।
ব্রাইটনের সঙ্গে এই ম্যাচটি ব্যারির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, কারণ তিনি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক গোলের মাধ্যমে নিজের মূল্য প্রমাণ করেছেন। যদি তিনি আবার গোল করেন, তবে এভারটনের লিগে অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং তার ক্যারিয়ারেও নতুন সাফল্যের দরজা খুলে যাবে।
সারসংক্ষেপে, থিয়ের্নো ব্যারির যাত্রা একটি কঠিন শুরুর পর পুনরুদ্ধার এবং ধারাবাহিকতা অর্জনের গল্প। জাঞ্জিবারের সমুদ্রতটে শিশুরা তাকে পুনরায় ফুটবলের প্রেমে ফিরিয়ে এনেছিল, এবং এখন তিনি এভারটনের আক্রমণকে সমর্থন করে দলের সাফল্যে অবদান রাখছেন। তার ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখবে ভক্ত ও বিশ্লেষক উভয়ই।



