বিসিবি (বিসিবি) আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে সাকিব আল হাসানকে আগামী সিরিজে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের সমর্থনসহ, সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।
সাকিব দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন, মূলত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশে ফিরে আসতে পারেননি। এই অনুপস্থিতি তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় বড় ফাঁক সৃষ্টি করেছে, তবে সম্প্রতি বিসিবি তার ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে।
বিসিবি উল্লেখ করেছে যে সাকিবের পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ভিত্তিতে তাকে পরবর্তী সিরিজে নির্বাচনের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সাকিবের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাকিব নিজেও দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলে অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, যদি সুযোগ পান তবে শেষ ম্যাচগুলো দেশের ভক্তদের সামনে খেলতে চান। এই ইচ্ছা তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার লক্ষ্যে।
বিসিবি ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল সাকিবকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের অংশ হিসেবে দেখতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সাকিবের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে।
সাকিবের শেষ আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচটি সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ কানপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় তিনি মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেননি।
সাম্প্রতিক সময়ে সাকিব তিনটি ফরম্যাটেই শেষ ম্যাচ খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, দেশের ভক্তদের সামনে শেষবারের মতো সব ফরম্যাটে পারফর্ম করার ইচ্ছা রয়েছে। বিসিবি এই ইচ্ছাকে সম্মান করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
আশরাফুল সাকিবের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “আমি তার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি যেখানে তিনি সব ফরম্যাটে খেলতে শেষ করবেন বলে বলেছিলেন। তবে আমি মনে করি, যদি কোনো খেলোয়াড় এক ফরম্যাটে মনোযোগ দেয়, যেমন মুশফিকুর এখন শুধুমাত্র টেস্টে, তবে তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পারফর্ম করতে পারবেন।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সাকিবকে এক ফরম্যাটে ফোকাস করতে উৎসাহিত করছেন।
আশরাফুল আরও উল্লেখ করেছেন, “প্রতি বছরই কোনো না কোনো বিশ্বকাপ হয়, এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য যদি সাকিব বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান, তার বয়স হবে ৩৭‑৩৮। আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ৪০‑৪২ বছর বয়সেও খেলোয়াড়রা সক্রিয় থাকতে পারেন।” এই বিবৃতি সাকিবের দীর্ঘায়ু সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।
ফিটনেসের দিক থেকে আশরাফুল নিশ্চিত করেছেন, “সাকিব বর্তমানে খুবই ফিট, তিনি সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। তিনি ঘরে বসে নেই, বরং বিভিন্ন লিগে খেলছেন। যদি তিনি বিশ্বকাপের পরিকল্পনা মাথায় রেখে শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলতে চান, তবে তা পুরো দলের জন্যই উপকারী হবে।” এই মন্তব্য সাকিবের শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক দিককে তুলে ধরে।
বিসিবি এখন সাকিবের ফিরে আসার সম্ভাবনা ও ফিটনেসের ভিত্তিতে পরবর্তী সিরিজের জন্য তার ভূমিকা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় করে, সাকিবকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব কিনা তা নির্ধারিত হবে। দেশের ভক্তদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সাকিবের ফিরে আসা দলকে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দিক থেকে সমৃদ্ধ করবে।



