রাজশাহী শহরের হারগ্রাম বাজারে অবস্থিত একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে সন্ধ্যাবেলায় এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ৫০ বছর বয়সী রৌশান আরা নামের মহিলা দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর তার স্বামী গুলাম কিবরিয়া কামাল, ৫৫, গুরুতর আঘাতে হাসপাতালে ভর্তি। দুজনেই একই বাড়িতে বাস করতেন এবং ঘটনাটি রাতের সময় ৯৯৯ জরুরি নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশ ও মেডিকেল টিমের হস্তক্ষেপে প্রকাশ পায়।
মৃতের পরিচয় রৌশান আরা, যিনি স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদে কাজ করতেন। তিনি ৫০ বছর বয়সী এবং সম্প্রতি তার স্বামীর সঙ্গে ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। স্বামী গুলাম কিবরিয়া কামাল, একই দৈনিকের ডেপুটি এডিটর, ৫৫ বছর বয়সী এবং সংবাদ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
দুইজনের বাসস্থান ছিল হারগ্রাম বাজারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত তিনতলা ভবনের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট। পরিবারটি ঐ ফ্ল্যাটে কয়েক মাস ধরে বসবাস করছিল, এবং কোনো প্রতিবেশীর কাছ থেকে কোনো অস্বাভাবিক শব্দের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
সন্ধ্যায় ৯৯৯ জরুরি হেল্পলাইন থেকে কল পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কলের ভিত্তিতে তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে, রৌশান আরা মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, আর স্বামী কামাল বেডে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দুজনকে সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে রৌশান আরা মৃত ঘোষিত হয়। ডাঃ বিলাল উদ্দিন, জরুরি বিভাগের প্রধান, জানান, রৌশানকে মৃত অবস্থায় গলা ঘেঁষা এক টুকরো কাপড়ে আবৃত অবস্থায় আনা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ অটোপ্সি ফলাফলের পরেই নিশ্চিত হবে।
কামাল স্বামীর ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক আঘাত পাওয়া গেছে। তার হাত ও পায়ে কাটার মতো ক্ষত দেখা গিয়েছে এবং তিনি অজানা রসায়নিক পদার্থ গ্রহণের সন্দেহে আছেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে সমালোচনামূলক বলে উল্লেখ করেছেন এবং তীব্র চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের মতে, বাড়িটি তৃতীয় তলায় অবস্থিত এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় রৌশান আরা মেঝেতে শুয়ে ছিল, আর কামাল বেডে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তের জন্য সিআইডি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী সংবাদ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু ঘটনাটির বিষয়ে জানিয়ে বলেন, “এখন পর্যন্ত কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়, এবং স্বামীর অবস্থা এখনও সমালোচনামূলক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার গাজিয়ুর রহমানও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পুলিশ ও সিআইডি দল ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে সক্ষম হয়নি। তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলাকালীন কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অটোপ্সি ফলাফল ও অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে। স্বামী-স্ত্রীর এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকাহত করেছে এবং সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।



