শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যে অ্যালেক্স মার্শালকে লক্ষ্য করে ফিক্সিংয়ের অভিযোগের কোনো তদন্তের অস্তিত্ব নেই। বোর্ড স্পষ্ট করে জানায় যে এই ধরনের দাবি ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং মনগড়া। একই সঙ্গে অ্যালেক্স মার্শাল ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন যে কোনো তদন্ত চলছে না।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিসিবি সভাপতি আমার দ্বারা তদন্তাধীন-এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য ও বানানো।” এই উক্তি মার্শালের সরাসরি বক্তব্যকে তুলে ধরে যে তিনি নিজে থেকেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বোর্ডের মতে, বিসিবি সভাপতি কোনো তদন্তের অধীন নয় এবং এই ধরনের গুজব সম্পূর্ণভাবে কল্পিত।
বিসিবি এই ভুয়া তথ্যের বিস্তারকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বোর্ডের মতে, এমন গুজবের মাধ্যমে সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের অখণ্ডতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই, ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য দায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিসিবি জানিয়েছে যে ৩০.০১.২০২৬ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং ৩৮৬৭ দাখিল করা হয়েছে। এই জিডি ভুয়া তথ্য ছড়ানো ব্যক্তিবর্গ ও প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সূচনা করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো ধরনের মানহানি প্রচেষ্টা তার বিরোধিতা করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করবে। সংস্থা উল্লেখ করেছে যে এই ধরনের কুচক্রী কর্মকাণ্ডের ফলে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই তা সহ্য করা হবে না।
বিসিবি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানিয়েছে যে যাচাইহীন তথ্য শেয়ার বা প্রচার থেকে বিরত থাকুন। সংস্থা বলেছে, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অফিসিয়াল সূত্রের ওপর নির্ভর করা উচিত। এভাবে গুজবের প্রভাব কমিয়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে মনোনিবেশ করা সম্ভব হবে।
বিসিবি যোগাযোগ বিভাগ সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের পর্যবেক্ষণ বাড়াবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুজবের পুনরাবৃত্তি রোধে তদবির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্থার শেষ বক্তব্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতি ও সাফল্য বজায় রাখতে সংস্থা সব ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের মোকাবেলা করবে এবং ক্রিকেটের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।



