গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার, যিনি বরিশাল‑দক্ষিণ জেলার সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলার বিএনপি সহ‑সভাপতি পদে ছিলেন, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে পদত্যাগের নোটিশ প্রকাশের পর জামাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন।
পদত্যাগের নথি তিনি বিএনপি দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে জমা দেওয়ার কপি ফেসবুকে শেয়ার করেন। নথিতে তিনি ৪০ বছর (চার দশক) ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেই সময়ে মামলা‑হামলা, জেল‑জুলুম ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং দলীয় অভ্যন্তরে নিজেকে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত অনুভব করছেন বলে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের নাম না উল্লেখ করে লিখেছেন, “একজন নেতার ভয়ঙ্কর ইগো আর কতিপয় দালালের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ জিয়ার গড়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে অব্যাহতি নিলাম।” এই বক্তব্যে তিনি দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বিএনপির প্রাক্তন নেতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির অর্ধেক ও বাকি অর্ধেকই শেষ হয়ে গেছে, এমন মন্তব্যে তিনি দলীয় মিথ্যা রাজনীতিতে আর অংশ নিতে না চাওয়ার কথা জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দলটির মধ্যে লুটেরা, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী, দখলবাজ আছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জামাতের মধ্যে এসব নেই; দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তারা জীবন বাজি রাখে। সেই সত্যের সৈনিক হতে আমি জামাতে যোগ দিয়েছি।”
গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারকে জামাতের বরিশাল‑২ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাস্টারকে নেতৃত্বাধীন একটি সমাবেশে স্বাগত জানানো হয়। সমাবেশটি বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দাঁড়িপাল্লা মার্কার উঠানে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে তিন শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামাতের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পান।
আব্দুল মান্নান মাস্টার, যিনি জামাতের বরিশাল‑২ আসনের প্রার্থী, সমাবেশে বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর আমরা দেশের মানুষের কাছে আমাদের ভাবনা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের জন্য বিভিন্ন দল থেকে এসে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হবে। এটা বরিশাল‑২ আসনের বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা থেকে শুরু হয়েছে।” তিনি নতুন সদস্যদের যোগদানকে জামাতের শক্তি বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেন।
গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারের এই পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা ও সমর্থক গোষ্ঠী নিয়ে তিনি জামাতে যোগদান করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘকালীন সংযোগ শেষ করেছেন। এই পরিবর্তনটি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় পর্যায়ে দলীয় সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে বরিশাল‑২ আসনের ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব বিবেচনা করা হবে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং নতুন রাজনৈতিক গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন। জামাতের নেতৃত্বের দিক থেকে এই নতুন সংযোজনকে দলীয় সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি এবং ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারের পদত্যাগ ও জামাতে যোগদান রাজনৈতিক পরিসরে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে পার্টি গঠন ও সমন্বয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



