বাংলাদেশ সরকার হজ ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করার নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধিত সকল হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা আবশ্যক। ফিটনেস সনদ না থাকলে কোনো হজযাত্রীকে হজে গমন করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ সালের হজে নিবন্ধনকারী সকল যাত্রীকে সরকারী হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত টিকা গ্রহণের পর ফিটনেস সনদ ইস্যু করা হবে। এই সনদ হজ ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে যাত্রীরা সৌদি আরবের নুসুক মাসার (Nusuk Masar) সিস্টেমে ভিসা আবেদন করতে পারবেন। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না, তাই যাত্রীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে urged করা হয়েছে।
টিকাদানের ক্ষেত্রে, সৌদি আরবের হজ নির্দেশনা অনুসারে নির্দিষ্ট টিকাদান প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। সাধারণত টিটানাস, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কোভিড-১৯ টিকা অন্তর্ভুক্ত থাকে। টিকা গ্রহণের প্রমাণপত্রও ফিটনেস সনদের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
ফিটনেস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষায় রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য মৌলিক শারীরিক মানদণ্ড যাচাই করা হয়। কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা টিকা না নেওয়া হলে সনদ প্রদান করা হবে না।
সৌদি নুসুক মাসার সিস্টেমে ভিসা আবেদন করার জন্য যাত্রীদের ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্ট, ফিটনেস সনদ এবং টিকা সনদ আপলোড করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে হজ ভিসা ইস্যু হবে এবং যাত্রীরা হজের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারবে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তিতেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, হজের জন্য নিবন্ধনকারী সকল যাত্রীকে সরকারী হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকা গ্রহণের পর ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভিসা আবেদন করতে হবে।
এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে হজ ভিসা ইস্যু হবে না এবং যাত্রীরা হজে অংশ নিতে পারবে না। তাই হজ পরিকল্পনা করা সকল বাংলাদেশি মুসলিমকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারী হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে বলা হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে সময়মতো নুসুক মাসার সিস্টেমে আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং হজের প্রস্তুতি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। যাত্রীরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।
সর্বশেষে, বাংলাদেশ সরকার হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুস্থ হজ নিশ্চিত করতে এই স্বাস্থ্য নীতি প্রয়োগ করছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ফিটনেস সনদ হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হজের প্রস্তুতি শুরু করার আগে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পন্ন করা জরুরি।



