17 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআসিফ মাহমুদ সরকারী বাসা নিয়ে প্রতিবাদপত্র জমা

আসিফ মাহমুদ সরকারী বাসা নিয়ে প্রতিবাদপত্র জমা

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে সরকারী বাসা সংক্রান্ত তার আপত্তি জানাতে একটি লিখিত প্রতিবাদপত্র দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে তিনি পদত্যাগের পরও সরকারি বাসায় বসবাস চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রতিবাদপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছেন এবং একই মাসের ৩১ তারিখে হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ‘নিলয়‑৬’ যথাযথভাবে হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত বাসায় বসবাস করছেন এবং সেখান থেকে দলীয় কাজ পরিচালনা করছেন।

প্রতিবেদনটি যে তথ্যটি উপস্থাপন করেছে যে তিনি বাসা ত্যাগ না করে বসে আছেন, তা তিনি ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, বাসা ত্যাগের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে বাস করেননি এবং এই বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মচারীই জানেন।

আসিফ মাহমুদ আরও জানিয়েছেন যে বাসার সমস্ত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ সম্পূর্ণ সম্পদ উপ‑সহকারী প্রকৌশলীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের প্রমাণস্বরূপ তিনি একটি নথি সংযুক্ত করেছেন, যা মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডে যাচাই করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

প্রতিবাদপত্রে বিশেষ সহকারী মেহেদী হাসান মুন্নার স্বাক্ষর রয়েছে এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবেদনে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানের মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং আসিফ মাহমুদ কখন বাসা ছাড়বেন তা জানেন না বলে বলা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ এই মন্তব্যটিকেও ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে বিবেচনা করেছেন।

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নীতিমালা অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা অবসরের পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারেন। আসিফ মাহমুদ দাবি করেন যে তিনি এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ২১তম দিনে বাসা হস্তান্তর করেছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই করলে হস্তান্তরের সঠিক তারিখ ও প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে।

প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবেদনের প্রকাশের পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় করা ও হয়রানি করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি এই ধরনের প্রকাশনা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরির সময় যদি সাংবাদিক দল আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তখন তিনি ইতিমধ্যে এক মাস আগে বাসা ছেড়ে গেছেন বলে জানিয়েছিলেন। তার এই বক্তব্যই প্রতিবেদনের মূল তথ্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

আসিফ মাহমুদের প্রতিবাদপত্রে উল্লেখিত হস্তান্তর নথি এবং অন্যান্য প্রমাণাদি মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করলে, তার দাবির সঠিকতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। তিনি এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।

প্রতিবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকারি বাসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য যদি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়, তবে তা সংশোধন করা উচিত। তিনি মিডিয়াকে সঠিক তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনা সরকারের বাসা নীতিমালা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের পর বাসভবনের ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনাকে নতুন দিক দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ভুল তথ্যের পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিবাদপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারী বাসা সংক্রান্ত নীতি ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যদি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে, তবে সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের পর বাসভবনের ব্যবহারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments