তারেক রহমান রংপুরের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপি র্যালিতে রেফারেন্ডাম ও সাধারণ নির্বাচনের সংযোগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রেফারেন্ডামকে জুলাই চার্টারের অংশ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। র্যালি অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এমন রেফারেন্ডামের প্রেক্ষাপটে।
সকাল প্রায় দুইটায় তিনি বগুড়া থেকে রংপুরের পথে রওনা হন। গাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তিনি রেলপথের পাশে অবস্থিত রঙিন রেলস্টেশন থেকে র্যালি স্থান পর্যন্ত অগ্রসর হন। এই যাত্রা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
প্রায় বিকেল পাঁচটায় তিনি পিরগঞ্জ উপজেলা, বাবানপুর জাফরপাড়া গ্রামে থেমে শহীদ আবু সায়েদের সমাধিতে পৌঁছান। আবু সায়েদ জুলাই ২০২৪ উত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত, তার সমাধি স্থানটি স্থানীয় জনগণের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সমাধিতে পৌঁছে তিনি নামাজ শেষ করে শহীদ আবু সায়েদের বাড়ির সামনে বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে তিনি রেফারেন্ডামের গুরুত্ব পুনরায় উল্লেখ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি গ্রামবাসীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার সুযোগ পান।
বিকেল ছয়টায় তিনি রংপুরের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত র্যালির প্রস্তুতির দিকে রওনা হন। র্যালি শুরু হওয়ার আগে তিনি গ্রাম থেকে সরাসরি রেলগাড়ি দিয়ে রংপুরে পৌঁছান। রেলগাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভিড়ের মাঝে প্রবেশ করেন।
সন্ধ্যা ছয়টির ত্রিশ মিনিটে র্যালি শুরু হয়। তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উঠে রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ়ভাবে কথা বলেন। তিনি ভোটারদেরকে জুলাই চার্টারকে সমর্থন করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে আহ্বান জানান। তার ভাষণে রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করা হয়।
রেফারেন্ডামটি ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমন্বয় ভোটারদের একসাথে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সুযোগ দেবে। নির্বাচন কমিশনের মতে রেফারেন্ডামের ফলাফল সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করবে।
জুলাই চার্টার, যা রেফারেন্ডামের মূল বিষয়, সরকারী নীতি ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে গঠিত। বিএনপি এই চার্টারকে দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তা কার্যকর করার দাবি রাখে। তারেক রহমানের র্যালিতে এই বার্তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়।
বিএনপি দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও র্যালিতে উপস্থিত থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেন। তারা ভোটারদেরকে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিতে বিভিন্ন প্রচারণা চালাবে বলে জানান। র্যালির শেষে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে থেকে বহু সমর্থক ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করতে পারে। ভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে জুলাই চার্টার অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের ফলাফল সংশোধন প্রক্রিয়াকে থামাতে পারে।
র্যালি শেষে তারেক রহমান আবার বগুড়া ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তিনি রেলগাড়ি দিয়ে রংপুর থেকে বগুড়া পথে রওনা হন, যেখানে আগামী সপ্তাহে আরও রেফারেন্ডাম প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার উপস্থিতি ও বক্তব্য রেফারেন্ডামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই র্যালি এবং রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচন কমিশন রেফারেন্ডামের ভোটিং প্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। সকল রাজনৈতিক দলকে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে কী পরিবর্তন আনবে তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশকে নির্ধারণ করবে।



