প্রিমিয়ার লীগ ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিন ঘনিয়ে আসছে, মাত্র ৭২ ঘন্টা বাকি। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, এই জানুয়ারি উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লীগ ক্লাবগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় £300 মিলিয়ন ব্যয় করেছে, যা গত দশ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জানুয়ারি ব্যয়, কেবল ২০২৩ সালে চেলসি যে £270 মিলিয়ন ব্যয় করেছিল তার পরে। যদিও সংখ্যা বড়, মাঠে দেখা যাচ্ছে ব্যয়ের তীব্রতা ততটা নয়।
বড় ব্যয়ের তালিকায় বেশ কিছু নাম রয়েছে যা সাধারণ ভক্তদের কাছে অপরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, ব্রায়ান ম্যাডজো, রায়ান এবং কায়ে ফুরো নামের খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য বড় ট্রান্সফার গাইডের দরকার নেই। এই অদ্ভুত নামগুলো জানুয়ারি উইন্ডোর অস্বাভাবিক দিককে তুলে ধরে, যেখানে বেশিরভাগ চুক্তি ফ্যান্টাসি ফুটবল গেমের মতো শোনায়।
সাধারণত জানুয়ারি মাসে ক্লাবগুলো বড় ব্যয়ের চেয়ে সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকে থাকে। শীতকালীন ট্রান্সফার সময়ে বড় ব্যয় সাধারণত ক্লাবগুলো গুরুতর সমস্যায় পড়লে ঘটে। তবে এই প্রবণতা সবসময় ঠিক নয়; ম্যানচেস্টার সিটি এবং অ্যাস্টন ভিলা এই নিয়মকে ভেঙে দিয়েছে, কারণ তারা সমস্যার মাঝেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে, আর্সেনাল, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং নিউক্যাসল এই মাসে এখনও কোনো বড় ব্যয় করেনি। তাদের চেকবুক বা পেপাল অ্যাকাউন্টে এখনো কোনো লেনদেনের চিহ্ন দেখা যায় না, যা বাজারে তাদের সতর্কতা বা আর্থিক সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। এই চারটি ক্লাবের অপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে-তে তাদের অবস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
প্রিমিয়ার লীগে ‘ব্ল্যাক সোমবার’ নামে পরিচিত শেষ দিনটি দ্রুত নিকটবর্তী, এবং বিশাল আর্থিক চাপের মুখে থাকা ক্লাবগুলো সম্ভবত শিরোনাম দখল করবে। বিশেষ করে যেসব দল শীতের মাঝামাঝি সময়ে ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং বড় চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে।
ওয়েস্ট হ্যাম এই পরিস্থিতিতে পুরোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে দুইজন অজানা দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড়কে স্বাক্ষর করেছে, যা তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই দুই নতুন খেলোয়াড়ের আগমনের ফলে ওয়েস্ট হ্যামের আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়েছে এবং দলকে নতুন শক্তি প্রদান করেছে।
ফরেস্ট, লিডস এবং প্যালেসের ট্রান্সফার তালিকায় বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে, তবে তারা চেকআউটে অগ্রসর হতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের শপিং কার্টে অনেক খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে, তবে চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শর্ত পূরণে তারা সংগ্রাম করছে।
প্যালেস জানুয়ারি মাসের শুরুতে ব্রেনান জনসনকে উন্মোচন করে বড় শোরগোল সৃষ্টি করেছিল, যা টাইটানিকের সেপিয়া রঙের ছবি তুলার মতো চিত্তাকর্ষক ছিল। এরপর তারা ওলফসের স্ট্রাইকার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনকে £50 মিলিয়ন মূল্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল, যিনি এই সিজনে প্রিমিয়ার লীগে মাত্র এক গোল করেছেন। তবে চুক্তি শেষ মুহূর্তে থেমে যায়, কারণ ওলিভার গ্লাসনারের জানার পর তিনি পুনরায় বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন।
বাজারে এখনও অনেক ক্লাব হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে দর কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে, সস্তা বিকল্পের সন্ধানে। এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছোট বাজেটের ক্লাবগুলো বড় ক্লাবের তুলনায় দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে-তে কোন দলগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারের গতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



