19 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইন্দোনেশিয়ার আচেহে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের জন্য যুগলকে ১৪০ বার বেত্রাঘাত

ইন্দোনেশিয়ার আচেহে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের জন্য যুগলকে ১৪০ বার বেত্রাঘাত

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আচেহ প্রদেশে বৃহস্পতিবার এক দম্পতির ওপর শারিয়াহ আইনের অধীনে জনসমক্ষে বেত্রাঘাত কার্যকর করা হয়। ২১ বছর বয়সী এক নারী এবং তার সঙ্গীকে মোট ১৪০ বার শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয়, যেখানে অতিবিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কের জন্য ১০০ বার এবং মদ্যপানের জন্য অতিরিক্ত ৪০ বার বেত্রাঘাত করা হয়।

শারিয়াহ পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ রিজাল জানান, শাস্তি সম্পন্ন করার সময় নারী শারীরিক কষ্টে চিৎকার করে এবং শেষ পর্যন্ত বেদনায় অচেতন হয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

নারীর সঙ্গীকে একই পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া হয়; তাকে ও ১৪০ বার বেত্রাঘাত করা হয় এবং শারীরিক কষ্টের পরামর্শে হাসপাতালে পাঠানো হয়। উভয়কে শাস্তি শেষে স্থানীয় শারিয়াহ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হবে এবং আইনি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই দিনে আরও চারজনকে শাস্তি প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে আচেহের ইসলামিক পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য এবং তার নারী সঙ্গী অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়ার পর ২৩ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়। রিজাল উল্লেখ করেন, কোনো ব্যতিক্রম না করে সকলকে সমানভাবে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

শারিয়াহ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করার পর রিজাল জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাসনব্যবস্থার নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য অবিলম্বে বরখাস্ত করা হবে এবং তার পদত্যাগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে। এই সিদ্ধান্তটি শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

আচেহ প্রদেশ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র অঞ্চল যেখানে কঠোর শারিয়াহ আইন প্রয়োগ করা হয়। জুয়া, মদ্যপান, সমকামিতা এবং অবৈধ যৌন সম্পর্কের মতো অপরাধের জন্য জনসমক্ষে বেত্রাঘাতের প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। এই প্রথা স্থানীয় আইন অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি হিসেবে স্বীকৃত, তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি এটি ‘নিষ্ঠুর ও মধ্যযুগীয়’ বলে সমালোচনা করে আসছে।

ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘কনট্রাস’ এর আচেহ সমন্বয়কারী আজহারুল হুসনা উল্লেখ করেন, বেত্রাঘাতের প্রক্রিয়া এখনও যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত নয় এবং শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তিনি শাসনব্যবস্থাকে এই দিকগুলোতে উন্নতি করার আহ্বান জানান।

শাসনব্যবস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেত্রাঘাতের পর শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী দাবি করছে।

শারিয়াহ আদালত এই মামলাগুলোর উপর আনুষ্ঠানিক রায় প্রদান করবে এবং শাস্তি প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের সুযোগ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মামলাগুলোকে শাসনব্যবস্থার নীতিমালা অনুযায়ী রেকর্ড করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার শারিয়াহ আইন প্রয়োগের পদ্ধতি এবং মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মধ্যে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। শাসনব্যবস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংলাপের মাধ্যমে শাস্তি প্রাপ্তদের পুনর্বাসন ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments