কুমিল্লা জেলার লাকসাম স্টেডিয়ামে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান তার দলকে ‘মামা-খালুর দেশ নেই, বেগমপাড়া নেই’ বলে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টি কখনো কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করেনি, না কোনো দয়া-অনুকম্পা চেয়েছে, আর হাজারেরও বেশি কর্মী ও সহকর্মী হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশ ছেড়ে পালায়নি।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কিছু অংশ সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে: “জামায়াত কারো কাছে মাথা নত করে নাই। কারো দয়া-অনুকম্পা কামনা করে নাই। হাজার কর্মী, সহকর্মী হারিয়েছে মাথা নত করে নাই। কারও চোখ রাঙানিকে পরোয়া করে নাই। দেশ ছেড়েও পালায় নাই। ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব। এ দেশ আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোনো মামা-খালুর দেশ নাই, বেগম পাড়াও নাই। আমাদের পাড়া একটাই, কর্মের বাংলাদেশ।”
এছাড়া তিনি বর্তমান সময়ে যারা ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ দেখাচ্ছে, তাদেরকে দেশের মানুষের সঙ্গে তাড়া করা যাবে না বলে সতর্ক করেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যারা সাহসী, তাদেরই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বেছে নিতে হবে, এ কথায় তিনি জোর দেন। “সেই সাহস আল্লাহর মেহেরবানীতে জমায়াতে জামায়াত-এ-ইসলামির আছে। দফায় দফায় জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাদেরকে ‘সাজানো সাক্ষী ও পাতানো আদালত’ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
শফিকুর রহমান ধর্মীয় সংহতি ও সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের মাটিতে গড়ে উঠবে। তিনি দেশের ভবিষ্যৎকে ‘ফুলের বাগানের মত’ রূপান্তর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার পাবে এবং কোনো লড়াইয়ের প্রয়োজন হবে না। “কারণ আমরা সমাজের সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। দেশ সরকার দেখবে না, তিনি কোন দলের কিংবা তিনি কোন ধর্মের।”
সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন। বর্তমান বেতন কাঠিন্যের কারণে অনেক কর্মী ‘ইলিগ্যাল ইনকাম’ করতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ লোভে বা নেশার কারণে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বেতন স্কেলকে সম্মানের সাথে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামির কুমিল্লা-৯ আসনের প্রার্থী ছৈয়দ এ.কে.এম. সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ.টি.এম. মাছুম, আব্দুল হালিম, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল, সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম, নির্বাচনি পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক আমিনী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমানের এই রেটোরিক্যাল আক্রমণ পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রবাহকে প্রভাবিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক। ‘মামা-খালুর দেশ নেই’ রূপকটি পার্টির স্বতন্ত্রতা ও আত্মনির্ভরতার বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াত-এ-ইসলামির অবস্থানকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে পারে। ভবিষ্যতে পার্টি কীভাবে এই বর্ণনা ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।



