বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আজ একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফিক্সিং সন্দেহে কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভিত্তিহীন ও কুৎসা প্রচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বোর্ডের এই স্পষ্ট ঘোষণা বর্তমান গুজবের প্রভাবকে সীমিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে বলা হয়েছিল যে, ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল আমিনুলের ফিক্সিং জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন। সেই পোস্টটি দ্রুত শেয়ার ও মন্তব্যের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়, ফলে ক্রিকেট ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে পোস্টে উল্লেখিত তথ্যের কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোনো ভিত্তি নেই। বোর্ডের মতে, এমন গুজবের উদ্দেশ্য হল সভাপতি ও পুরো সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করা। এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তাই তা তীব্রভাবে নিন্দা করা হয়েছে।
ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল নিজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি আমিনুলের ফিক্সিং জড়িত থাকার কোনো তদন্ত পরিচালনা করছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, “আমার দায়িত্ব হল স্বচ্ছতা রক্ষা করা, এবং এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” এই স্পষ্ট মন্তব্য গুজবের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সহায়তা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। এই পদক্ষেপটি গুজবের পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মতে, কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তার প্রতি লক্ষ্য করে পরিচালিত কুৎসা ও ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ডের নীতি স্পষ্ট যে, এমন কার্যকলাপ কেবল ব্যক্তিগত সুনামই নয়, পুরো দেশের ক্রিকেটের প্রতি আস্থা ক্ষয় করে। তাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রচেষ্টা রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বোর্ড বর্তমানে দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কাজের পরিধি ও প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো অনধিকৃত অভিযোগ দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা লক্ষ্য।
অফিসিয়াল বিবৃতি শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উল্লেখ করেছে যে, আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজ ও দেশীয় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চলমান। বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য হল মাঠে পারফরম্যান্সের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা, গুজবের বদলে ক্রিকেটের গুণগত উন্নয়নে কাজ করা। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, তথ্য যাচাই না করে কোনো মন্তব্য না করা।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট করে বলেছে যে, আমিনুলের বিরুদ্ধে ফিক্সিং তদন্তের কোনো সূচনা হয়নি এবং এমন গুজবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই দৃঢ় অবস্থান ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



