19 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প কানাডা-নির্মিত বিমানের সার্টিফিকেশন বাতিলের হুমকি দেন

ট্রাম্প কানাডা-নির্মিত বিমানের সার্টিফিকেশন বাতিলের হুমকি দেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশালে একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গালফস্ট্রিম জেটের কিছু মডেলের সার্টিফিকেশন দিতে অস্বীকার করলে, কানাডা-নির্মিত সকল বাণিজ্যিক বিমান, বিশেষত বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ, তাদের সনদ বাতিল করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।

কানাডা কর্তৃক গালফস্ট্রিম জেটের সার্টিফিকেশন প্রত্যাখ্যানের পেছনে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক বিমান শিল্পের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তিনি এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, যদি কানাডা দ্রুত সমঝোতা না করে, তবে বোম্বার্ডিয়ার সহ অন্যান্য কানাডা-নির্মিত বিমানগুলোর ফ্লাইট সার্টিফিকেশন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হবে। এই হুমকি উভয় দেশের এয়ারলাইন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয়।

তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি কোনো বিমান ডেসার্টিফাই করার ক্ষমতা নেই। বিমান সনদ সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন) তত্ত্বাবধান করে। এই সংস্থা বিমান নকশা, উৎপাদন ও পরিচালনার মানদণ্ড নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ করে।

ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ট্রাম্পের পোস্টের পর বোম্বার্ডিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কানাডা সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।

বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ কানাডা-নির্মিত বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিরিয়াম নামক তথ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫,৪০০টি কানাডা-নির্মিত বিমান নিয়মিত সেবা দিচ্ছে, যার অর্ধেকের বেশি বোম্বার্ডিয়ার উৎপাদিত। এই সংখ্যা দেশের এয়ারলাইনগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য।

ট্রাম্পের হুমকি উভয় দেশের সরকারকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। যদি সনদ বাতিলের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনগুলোকে বিকল্প বিমান সরবরাহকারী খুঁজতে হবে, যা অতিরিক্ত খরচ ও সময়সীমা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে কানাডা-নির্মিত বিমান শিল্পের রপ্তানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়বে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই বিষয়টি কংগ্রেসের নজরে আসতে পারে এবং ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষমতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের সরকার যদি সমঝোতা না করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা (ICAO) বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় যে, বিমান নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments