ধুরন্ধর চলচ্চিত্রের নেটফ্লিক্স সংস্করণে সময়ের পার্থক্য নিয়ে গুজবের প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতাদের কাছের এক সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, স্ট্রিমিং সংস্করণটি থিয়েটার ও সিবিএফসি অনুমোদিত কাটের সঙ্গে একই।
গুজবের মূল বিষয় ছিল নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত ধুরন্ধরের দৈর্ঘ্য থিয়েটার সংস্করণের তুলনায় প্রায় নয় মিনিট কম, যা কিছু দর্শকের মধ্যে কাটা বা সেন্সর করা হয়েছে বলে সন্দেহ উত্থাপন করেছিল। তবে সূত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাস্তবে এই পার্থক্যটি সৃজনশীল সম্পাদনা নয়, বরং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ফল।
থিয়েটার থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের সময় সাধারণত তিন থেকে চার মিনিটের সময়ের পার্থক্য দেখা যায়। এর কারণ হল থিয়েটার প্রদর্শনের সময় ব্যবহৃত ইন্টারভাল প্লেট, সিবিএফসি স্লেট বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত উপাদানগুলো ডিজিটাল মাস্টার তৈরির সময় বাদ দেওয়া হয়। এই উপাদানগুলো স্ট্রিমিং সেবায় প্রয়োজন হয় না, ফলে মোট সময়ে সামান্য হ্রাস ঘটে।
ধুরন্ধরের নেটফ্লিক্স সংস্করণে কোনো দৃশ্য কাটা বা বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হয়নি। চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী, সংলাপ ও দৃশ্যাবলী সবই থিয়েটার সংস্করণের সঙ্গে একই রকম রয়ে গেছে। তাই দর্শকরা যেই সংস্করণটি দেখবেন, তা সিবিএফসি অনুমোদিত এবং থিয়েটারে প্রদর্শিত মূল কাটের সমান।
এই ধরনের সময়ের পার্থক্য চলচ্চিত্রের শিল্পী ও বিতরণকারীদের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। থিয়েটার থেকে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের সময়, ইন্টারভাল কার্ড, স্লেট বা থিয়েটার-নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, যাতে দর্শকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও মসৃণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে ‘ডিজিটাল মাস্টার প্রস্তুতি’ বলা হয় এবং এটি কোনো সৃজনশীল পরিবর্তন নয়।
ধুরন্ধর সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সময়ের পার্থক্য নিয়ে আলোচনার শিরোনাম উঠে এসেছে। তবে এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, এই পার্থক্যটি প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ফলে এবং চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তুতে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত ধুরন্ধরের সংস্করণটি থিয়েটার ও সিবিএফসি অনুমোদিত কাটের সমান, তাই দর্শকরা যেকোনো প্ল্যাটফর্মে একই গল্পের অভিজ্ঞতা পাবেন। এই স্পষ্টীকরণ গুজবকে দমিয়ে দেয় এবং স্ট্রিমিং সংস্করণের অখণ্ডতা নিশ্চিত করে।
চলচ্চিত্রের ভক্তদের জন্য এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে নেটফ্লিক্সে দেখার সময় কোনো দৃশ্য বাদ পড়বে না। একই সঙ্গে, চলচ্চিত্রের বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ গুজবের সম্ভাবনা কমাতে সহায়ক হবে।
ধুরন্ধরের নেটফ্লিক্স প্রকাশের পর থেকে দর্শকরা ইতিমধ্যে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করছেন, এবং এখন তারা জানেন যে তারা থিয়েটার সংস্করণের সমান অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এই স্পষ্টীকরণটি শিল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দর্শকের আস্থা জোরদার করতে সহায়তা করবে।



