মেল ব্রুক্স, ৯৯ বছর বয়সী কমেডি জায়ান্ট, নতুন ডকুমেন্টারি “মেল ব্রুক্স: দ্য ৯৯ ইয়ার্ড ম্যান!” এইচবিওতে সম্প্রচারিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করে, যেখানে তিনি এখনও হাসির সন্ধানে আছেন। ডকুমেন্টারিটি তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
ডকুমেন্টারির পরিচালনা করেছেন জাড আপাও ও মাইকেল বোনফিগ্লিও, যারা ব্রুক্সের ক্লাসিক “২০০০ ইয়ার্ড ওল্ড ম্যান” রুটিনের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিরোনামটি বেছে নিয়েছেন। এই শিরোনামটি কার্ল রেইনারের সঙ্গে তার পুরনো স্কিটের স্মরণ করিয়ে দেয়, যা কমেডি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। পরিচালনাকারীরা ব্রুক্সের জীবনের উত্থান-পতনকে সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়িত করতে বহু আর্কাইভ ফিল্ম ও সাক্ষাৎকার ব্যবহার করেছেন।
ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, ব্রুক্সের কমেডি যাত্রা শৈশবের রেডিও শো থেকে শুরু হয়ে হলিউডের বড় বড় প্রোডাকশনে পরিণত হয়েছে। তিনি নিজের কাজকে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, সামাজিক মন্তব্যের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার রসিকতা প্রায়ই সীমা অতিক্রম করে, যা তাকে সমালোচক ও সমর্থকদের উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ব্রুক্সের হাস্যরসের মূল বৈশিষ্ট্য হল তার অপ্রত্যাশিত রসিকতা, যেমন ফার্ট জোক ও হাঞ্চব্যাক গ্যাগ। তিনি এসবকে শিল্পের একটি রূপে পরিণত করে, দর্শকদের অস্বস্তিকর মুহূর্তেও হাসি এনে দিয়েছেন। এই ধরণের রসিকতা তার কাজকে আলাদা করে তুলেছে এবং কমেডি জগতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
মার্ক টোয়েনের পর থেকে আমেরিকান হাস্যরসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ব্রুক্সকে গণ্য করা হয়। টোয়েনের মতোই তিনি ভাষার সীমা প্রসারিত করেছেন, তবে টোয়েনের তুলনায় তিনি শারীরিক ও গন্ধজনিত রসিকতায় বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন। তার কাজের মাধ্যমে হাসি ও সমালোচনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সমতা গড়ে উঠেছে।
ব্রুক্সের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে “দ্য প্রোডিউসারস”, “ব্লেজিং স্যাডলস”, “ইয়ং ফ্রাঙ্কেনস্টাইন”, “হিস্ট্রি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, পার্ট ১”, “হাই অ্যানজাইটি” এবং “স্পেসবলস”। এই ছবিগুলো প্রত্যেকটি তার স্বতন্ত্র শৈলীর প্রতিফলন, যেখানে সামাজিক ট্যাবু ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা মিশ্রিত হয়েছে। কিছু চলচ্চিত্র প্রথমে সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা পেয়েছিল, তবে পরবর্তীতে সেগুলো ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, “ব্লেজিং স্যাডলস” প্রথম মুক্তির সময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তবে আজ এটি পশ্চিমা কমেডির অন্যতম মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, “স্পেসবলস” তার রসিকতার অপ্রচলিত পদ্ধতির জন্য তৎক্ষণাৎ জনপ্রিয়তা অর্জন করে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এইসব চলচ্চিত্রের সাফল্য ব্রুক্সের ধারাবাহিক সৃজনশীলতা ও ঝুঁকি নেওয়ার ইচ্ছার ফল।
ব্রুক্সের ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি স্টুডিও এক্সিকিউটিভ, টেলিভিশন সেন্সর, বিদেশি সরকার এবং সামাজিক নীতির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। তার রসিকতা প্রায়ই প্রচলিত মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যা তাকে কখনও কখনও বিতর্কের মুখে এনে দিয়েছে। তবু এই বিরোধগুলোই তার কাজকে আরও প্রভাবশালী করেছে এবং নতুন প্রজন্মের কমেডিয়ানদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়েছে।
ব্রুক্সের মতে, হাসি ছাড়া অন্য কোনো বিষয় পবিত্র নয়; তাই তিনি সর্বদা হাসির জন্য ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার সৃষ্টিকর্মে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়, যেখানে তিনি কখনও নিজেকে সীমাবদ্ধ করেননি। তার কাজের মূল লক্ষ্য হল দর্শকের মুখে সত্যিকারের হাসি ফোটানো, তা সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো বাধা হোক না কেন।
ডকুমেন্টারিতে টেড সারান্ডোসের সঙ্গে তার কথোপকথনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে তিনি উচ্চ উদ্বেগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সারান্ডোসের পরামর্শে ব্রুক্স তার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও মনোযোগী হয়ে উঠেছেন, যা তার সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই আলোচনাটি দেখায় যে, বয়স বাড়লেও তিনি নিজের সীমা পরীক্ষা করতে এবং উন্নতি করতে আগ্রহী।
আজ ৯৯ বছর বয়সে ব্রুক্স এখনও নতুন রসিকতা খোঁজার পথে আছেন, তার অতীতের সাফল্যকে স্মরণ করে নয়। তিনি নিজেকে একটি চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখেন, যেখানে প্রতিটি নতুন হাসি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এই দৃষ্টিভঙ্গি ডকুমেন্টারিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা দর্শকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
“মেল ব্রুক্স: দ্য ৯৯ ইয়ার্ড ম্যান!” ডকুমেন্টারিটি শুধু তার ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্তসার নয়, বরং কমেডি শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পুনর্মূল্যায়নও বটে। এটি তার সৃষ্টিকর্মের গভীরতা ও প্রভাবকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়, এবং একই সঙ্গে হাসির শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করে। ডকুমেন্টারিটি এইচবিওতে সম্প্রচারিত হওয়ায় বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে তার গল্প পৌঁছাবে, যা ভবিষ্যতে কমেডি শিল্পের দিকনির্দেশনা গঠনে সহায়ক হবে।



