মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেটের বাইরে তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে রিকশা চালক চাঁন মিয়া অপহরণ করেন। শিশুর মা, শারীরিক থেরাপিস্ট সুমাইয়া আক্তার মিলি, শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পানির জন্য নিকটবর্তী দোকানে গিয়েছিলেন; রিকশায় শিশুটি বসিয়ে রেখে তিনি দোকানে গিয়ে ফিরে আসার আগে চালকটি শিশুটিকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান।
রাবের গোয়েন্দা দল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চাঁন মিয়াকে ঢাকার মগবাজারের ওয়ারলেস গেট এলাকায় গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে চালকটি স্বীকার করে যে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পাঠিয়েছেন। রাবের দল গাইবান্ধা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং তা মুগদা হাসপাতালের বাইরে তার মা-কে হস্তান্তর করে।
অভিযানের পর রাবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অপহরণের পেছনে কোনো বিক্রয় বা মানব পাচার সংক্রান্ত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং motive এখনও অজানা। তদন্ত চলমান থাকায় রাবের দল প্রাসঙ্গিক সব প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় হস্তান্তর করবে।
চাঁন মিয়া, ৪১ বছর বয়সী রিকশা চালক, তার কোনো সন্তান নেই এবং তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় একটি হত্যা মামলা ও মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের আছে। রাবের তথ্য অনুযায়ী, চালকটি শিশুর পরিবারের সঙ্গে কোনো পরিচিতি রাখে না।
শিশুটির উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিকশা চালকের বাবা মো. নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম নামের এক নারীকে একই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম. জে. এম. ইন্তেখাব চৌধুরী উল্লেখ করেন, “চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। তিনি রিকশা চালক হিসেবে কাজ করেন, শিশুর পরিবার তার সঙ্গে পরিচিত নয়। গেটের বাইরে শিশুটিকে নিয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ চলে যান।”
মুগদা থানার ওসির শারিফুল ইসলামও ঘটনাটির ক্রমবিবরণি দেন। তিনি বলেন, “শিশুর মা দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে রিকশা ভাড়া করেন। রিকশায় শিশুকে বসিয়ে রেখে তিনি পানির জন্য দোকানে যান, আর রিকশা চালক শিশুটিকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান।”
শিশুর মা সুমাইয়া আক্তার মিলি জানান, “আমি গেটের বাইরে পানি কিনতে গিয়েছিলাম, তখনই রিকশা চালক শিশুটিকে নিয়ে চলে গেলেন।” তিনি শিশুটির নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।
রাবের দ্রুত পদক্ষেপে শিশুটি নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় পরিবার ও সমাজে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। রাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে তদবির বাড়ানো হবে।



