মারিজানা জাঙ্কোভিচ, অভিনেত্রী থেকে পরিচালক, তার নতুন চলচ্চিত্র ‘হোম’‑এ অভিবাসন ও পরিচয়ের জটিলতা তুলে ধরেছেন। মন্টেনেগ্রোর পুরনো ইউগোস্লাভিয়া থেকে ডেনমার্কে স্থানান্তরিত একটি পরিবারের ছোট মেয়ে মায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি গড়ে উঠেছে। ছবিটি আন্তর্জাতিক রোটারডাম চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যে শিল্প জগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
‘হোম’‑এর কাহিনী ছয় বছর বয়সী মায়া যখন তার পরিবারকে ডেনমার্কে নিয়ে যায়, তখন শুরু হয়। তার দুই ভাই প্রথমে পেছনে রেখে যাওয়া হয়, ফলে মায়া নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করে। নতুন দেশে স্বাগত জানার আশা থাকা সত্ত্বেও, পরিবারটি শিখতে হয় কীভাবে পুরনো স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে নতুন জীবনে টিকে থাকা যায়।
চিত্রনাট্যটি জাঙ্কোভিচ নিজে এবং বাবাক ভাকিলি, বো হ্র. হ্যানসেন, এমিল নায়গার্ড আলবার্টসেনের সহযোগিতায় রচিত। ম্যানুয়েল ক্লারো ক্যামেরা পরিচালনা করেছেন, আর জেনা মাঙ্গুলাদ সম্পাদনা কাজের দায়িত্বে ছিলেন। প্রধান ভূমিকায় দেজান চুকিক, নাদা শারগিন, তারা কুব্রিলো, জেসপার ক্রিস্টেনসেন এবং জ্লাটকো বুরিকের অভিনয় দেখা যাবে। ডেনিশ তারকা ট্রিন ডিরহোম এবং ক্লায়েস ব্যাংগও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিত, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেবে।
জাঙ্কোভিচের নিজের পরিবারও একই রকম অভিবাসনের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। তার পরিবার ইভানগ্রাদ (বর্তমানে বেরানে) থেকে ডেনমার্কে চলে গিয়েছিল, যখন তিনি ছয় বছর বয়সী ছিলেন। এই ব্যক্তিগত ইতিহাস ‘হোম’‑কে স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রামাণিক করে তুলেছে এবং বর্তমান বিশ্বে চলমান বৃহৎ অভিবাসন প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায় যে, জাঙ্কোভিচের বন্ধু ট্রিন ডিরহোম এবং ক্লায়েস ব্যাংগকে প্রকল্পে যুক্ত করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দুজনই তাদের অভিনয় দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি দিয়ে ছবির মান বাড়িয়ে তুলেছেন। তাদের অংশগ্রহণের ফলে ডেনমার্কের স্থানীয় দর্শক এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমী উভয়েরই আগ্রহ জাগ্রত হয়েছে।
‘হোম’‑এর থিম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নের প্রতিফলন। পরিবারকে নতুন দেশে পুনর্গঠন করতে গিয়ে যে ত্যাগ ও সংগ্রাম হয়, তা আজকের বিশ্বে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। চলচ্চিত্রটি ভাষা শিখা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য মেনে নেওয়া এবং পুরনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন পরিচয় গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে।
রোটারডাম উৎসবে ছবির প্রদর্শনের আগে, জাঙ্কোভিচ জুমের মাধ্যমে মিডিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতা করেন। তিনি অভিবাসন ও ত্যাগের বিষয়গুলোকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আলোচনা করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে, তার নিজের অভিজ্ঞতা এই কাজের মূল অনুপ্রেরণা। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে একটি আত্মীয় ১৯৭০‑এর দশকে ডেনমার্কে কাজের সুযোগ পেয়ে রয়্যাল কোপেনহেগেন ফ্যাক্টরিতে গিয়ে চীনামাটির কাপ রঙ করা শিখেছিলেন। এই গল্পটি অভিবাসনের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘হোম’ চলচ্চিত্রটি এখন পর্যন্ত ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং সমালোচকরা এর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃশ্যমান সৌন্দর্যের প্রশংসা করছেন। ছবির সঙ্গীত, চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা সবই একত্রে মায়ার চোখে দেখা নতুন পৃথিবীর স্বপ্নময় ও বাস্তবিক দিকগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে।
যদি আপনি অভিবাসনের মানবিক দিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং পরিচয়ের সন্ধান নিয়ে চিন্তিত হন, তবে ‘হোম’ চলচ্চিত্রটি আপনার জন্য একটি মূল্যবান দৃষ্টান্ত হতে পারে। সিনেমা হলের আসন বুক করে বা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখার পরিকল্পনা করুন, যাতে এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করে এবং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বকে দেখতে সাহায্য করে।



