21 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলীয় শীর্ষ কূটনীতিককে কূটনৈতিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য দেশত্যাগের আদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলীয় শীর্ষ কূটনীতিককে কূটনৈতিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য দেশত্যাগের আদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭১শে জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে ইসরায়েলীয় দূতাবাসের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা, আরিয়েল সাইডম্যান, কূটনৈতিক নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘনের ভিত্তিতে দেশত্যাগের আদেশ পেয়েছেন। মন্ত্রণালয় অনুযায়ী, তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সীমা অতিক্রম করতে হবে।

সাইডম্যানকে “পার্সোনা নন গ্রাটা” ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে তার সরকারি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকান রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসার প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া দেশে আমন্ত্রণ জানানো উল্লেখ করা হয়েছে।

দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সাইডম্যানের দায়িত্ব শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ নয়; তার দায়িত্বে এসওয়াটিনি, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মরিশাস এবং নামিবিয়া সহ প্রতিবেশী দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত। তাই এই সিদ্ধান্তের প্রভাব অঞ্চলের কূটনৈতিক সম্পর্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ইতিমধ্যে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত) এ ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গণহত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করার পর থেকে তিক্ত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল এই অভিযোগকে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তার অবস্থান রক্ষা করার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দূতাবাসের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার উল্লেখ করেছে যে ইসরায়েলের দেশে কোনো রাষ্ট্রদূত বর্তমানে নিযুক্ত নেই, এবং সাইডম্যানের পদে তিনি চার্জে দ্যাফেয়ার্স হিসেবে কাজ করছিলেন।

দূতাবাসের বিবৃতি অনুসারে, সাইডম্যানের কাজকে “কূটনৈতিক সুবিধার গুরুতর অপব্যবহার” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই ধরনের আচরণকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং তা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত হিসেবে গণ্য করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলকে দেশের অভ্যন্তরে কোনো কূটনৈতিক কার্যক্রমের জন্য পূর্ব অনুমতি নিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে।

এই ঘটনার পর, দক্ষিণ আফ্রিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক সংলাপের নতুন রূপরেখা প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধ করা যায়। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সমন্বয় ও সমঝোতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পরামর্শমূলক মিটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দৃঢ় প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করছেন যে, কোনো দেশের কূটনৈতিক কর্মী যদি হোস্ট দেশের শীর্ষ নেতার প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করে, তবে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিপরীত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশন এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। যদিও এখনো কোনো নতুন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়েছে না, তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পুনরায় স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার এই ঘটনাকে কূটনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে, উভয় দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে পুনর্গঠন হবে তা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments