বুর্কিনা ফাসোর সামরিক শাসনকারী সরকার গতকাল ঘোষণা করেছে যে, দেশের সব রাজনৈতিক দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ২০২২ সালে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করা পর থেকে দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা। ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে নেতৃত্বাধীন জুন্তা, সেপ্টেম্বর ২০২২-এ পূর্বের জুন্তা উখাদে করে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে কঠোরভাবে দমন করেছে। সরকার দাবি করছে যে, রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ততা দুঃব্যবহার, নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন এবং সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ত্রাওরে নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার পর থেকে বুর্কিনার রাজনৈতিক দৃশ্যপট ব্যাপক পরিবর্তন দেখেছে। ত্রাওরে পূর্বে ক্ষমতায় থাকা পল-হেনরি সানডাওগো দামিবা’কে উৎখাত করে শাসন গ্রহণ করেন। দামিবা মাত্র নয় মাস আগে ক্ষমতায় আসলেও, তার শাসনকালে সামরিকের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ত্রাওরের হাতে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ত্রাওরের শাসনকালে দলগুলোকে জনসমাবেশে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও অভ্যন্তরীণভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ততা দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষয় করে এবং নাগরিকদের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন বিরোধ সৃষ্টি করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকার দলগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। এই আইনটি শীঘ্রই ট্রানজিশনাল লেজিস্লেটিভ অ্যাসেম্বলি-তে পাঠানো হবে, যেখানে তা আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে। আইনটি পার্লামেন্টে পৌঁছানোর পর, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হবে এবং তাদের সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় স্থানান্তর করা হবে।
অধিকন্তু, ত্রাওরের সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা, সরকারী কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বৃদ্ধি করা এবং রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের পথে পথ প্রশস্ত করা। দলগুলোর সম্পদ রাষ্ট্রের তহবিলে যুক্ত হওয়ায়, সরকার আশা করে যে, এই তহবিলগুলোকে দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। এই ধরনের আর্থিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিক উন্মোচন করতে চায়।
ত্রাওরের ২০২২ সালের অভ্যুত্থান পূর্বে ক্ষমতায় থাকা পল-হেনরি সানডাওগো দামিবা, অভ্যুত্থানের পর টোগোতে নির্বাসিত হন। টোগো সরকার তাকে বহুবার কূটনৈতিকভাবে অভিযুক্ত করে, কারণ বুর্কিনার সামরিক শাসন তাকে দেশীয় কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র ও হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। দামিবা টোগোতে শরণার্থী অবস্থায় থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে টোগো সরকার তাকে বুর্কিনায় ফেরত পাঠায়। এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।
দলগুলোকে বিলুপ্ত করার এই সিদ্ধান্তের ফলে বুর্কিনার রাজনৈতিক পরিসরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একদিকে, সরকার দাবি করে যে, এই পদক্ষেপ দেশের ঐক্য ও শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়াবে; অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থক ও নাগরিক সমাজের কিছু অংশ এই সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। তবে সরকার এখনও স্পষ্ট করে না যে, ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো কীভাবে গঠন করা হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে পুনরায় চালু হবে।
পরবর্তী ধাপে, ট্রানজিশনাল লেজিস্লেটিভ অ্যাসেম্বলি-তে খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হবে এবং তা অনুমোদিত হলে, দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে, দলগুলোর সম্পদ রাষ্ট্রের তহবিলে যুক্ত হবে এবং তা ব্যবহার করে সরকার তার ঘোষিত উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত, বুর্কিনার রাজনৈতিক দৃশ্যপট কী রূপ নেবে এবং নতুন শাসনব্যবস্থা কীভাবে গঠন হবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হবে।



