কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ অভিযানে দশজন মাদক পাচারকারী গ্রেফতার এবং বিশাল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় শুরু হয়।
কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের কর্মকর্তারা নাফ নদীর নোয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক দুইটি কাঠের নৌকা চিহ্নিত করে তল্লাশি চালায়। নৌকাগুলোতে অস্বাভাবিক গতি ও অপ্রচলিত লোডিংয়ের সূত্রে সন্দেহ উত্থাপিত হয়।
তল্লাশির সময় নৌকাগুলোর তলায় লুকিয়ে রাখা ২৫,০০০ পিসের বেশি ইয়াবা বের করা যায়। স্থানীয় বাজার মূল্যে এই পরিমাণের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা। এছাড়াও ২৮,০০০ টাকার নগদ অর্থও জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় মোট দশজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সকলেই নৌকায় লুকিয়ে থাকা মাদক ও নগদ অর্থের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও পটভূমি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, জব্দকৃত সামগ্রী ও গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানা এখন জব্দকৃত ইয়াবা, নগদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি সংরক্ষণ করে যথাযথ তদন্ত চালাবে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মাদক পাচার সংক্রান্ত আইন অনুসারে, ইয়াবা ও সংশ্লিষ্ট নগদ অর্থের মালিকানা ও পরিবহন অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেশা নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের এই ধরণের অভিযান দেশের সমুদ্রসীমা ও নদীতীরে মাদক পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে মাদক পাচার বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যার ফলে সীমান্ত রক্ষাকারী সংস্থাগুলো নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে।
টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারকারীরা প্রায়শই ছোট নৌকা ব্যবহার করে দ্রুত গতি বজায় রাখে। এই ধরনের গোপনীয়তা ভঙ্গ করতে গোয়েন্দা তথ্য ও সমন্বিত অপারেশন অপরিহার্য।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার উল্লেখ করেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানটি মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে দুর্বল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যভিত্তিক অপারেশন বাড়িয়ে মাদক প্রবাহ কমানো হবে।
অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জব্দকৃত সামগ্রী বিশ্লেষণ করে মাদক সরবরাহের মূল উৎস ও রুট চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করেছে। এ ধরণের বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অপারেশনকে লক্ষ্যভেদ করতে সাহায্য করবে।
মাদক সংক্রান্ত অপরাধের শিকার হওয়া জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক ব্যবহার রোধে শিক্ষা ও তথ্য প্রচার গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান দেশের মাদক বিরোধী প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। ভবিষ্যতে সমুদ্র ও নদী পথে মাদক পাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং সমন্বিত অপারেশন চালিয়ে যাওয়া হবে।



