বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, যদি আহমেদ আল-শারা আবার জাতীয় দলে ফিরে আসেন, তবে তাকে ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই মন্তব্যের পেছনে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) শাকিবকে শীঘ্রই দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা চালু করেছে।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর শুক্রবার ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, বোর্ড শাকিবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তার প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা গড়ে তুলছে। তিনি যোগ করেন, শাকিবের নিরাপত্তা ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হ্যারাসমেন্ট মামলাগুলো সরকারী পর্যায়ে যাচাই হচ্ছে, যা বিসিবির সরাসরি দায়িত্বের বাইরে।
শাকিবের প্রত্যাবর্তন যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তবে তিনি মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাকিস্তানবিরোধী ঘরে ঘরে ওডিআই সিরিজে অংশ নিতে পারবেন। সিরিজের ম্যাচগুলো ১২, ১৪ এবং ১৬ মার্চ নির্ধারিত, আর টেস্ট সিরিজটি মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পূর্বে টুর্নামেন্টকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) চলাকালীন সময়সূচি সামঞ্জস্য করা দরকার ছিল।
আসিফ আকবর উল্লেখ করেন, শাকিবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠে ফিরে আসতে পারবেন না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিসিবি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যই (প্রায় ২৩ জন) একমত যে শাকিবকে দলে ফিরিয়ে আনা উচিত। এই সিদ্ধান্তটি বোর্ডের ২৫ সদস্যের মধ্যে গৃহীত হয় এবং প্রায় সব সদস্যই একমত ছিলেন।
বিসিবি প্রেসিডেন্টকে সরকারী দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যাতে শাকিবের আইনি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হয়। আসিফের মতে, সরকারকে শাকিবের মামলাগুলো দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, আর বিসিবি শুধুমাত্র তার খেলাধুলার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি অতিরিক্ত কোনো দাবি করেননি, শুধু শাকিবের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি সম্প্রতি ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, শাকিবের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, শাকিবের লক্ষ্য হওয়া উচিত ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে খেলতে। তিনি উল্লেখ করেন, শাকিবের অভিজ্ঞতা ও বহুমুখী দক্ষতা দলের জন্য অপরিহার্য, এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
আশরাফুলের মতে, শাকিবের ফিরে আসা শুধু একক ম্যাচের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাকিবের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ ঠিক থাকলে, তিনি দলকে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে পারবেন।
বিসিবি এই সপ্তাহে শাকিবের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে শাকিবের প্রথম ম্যাচ হতে পারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্চের প্রথম টেস্ট, অথবা ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এই প্রত্যাবর্তন শাকিবের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
শাকিবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলাগুলো এখনও আদালতে চলমান, তবে সরকারী পর্যবেক্ষণ ও বিসিবি বোর্ডের সমর্থন মিলিয়ে শীঘ্রই সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আশরাফুলের বার্তা স্পষ্ট: শাকিবের ফিরে আসা দলকে শক্তিশালী করবে এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তকে কেবল প্রতীকী নয়, বরং বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শাকিবের প্রত্যাবর্তন যদি নিশ্চিত হয়, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আরও সুদৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।



