দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড নামের সিক্যুয়েলটি ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত, এবং আজই প্রথম টিজার প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি ভিপুল অমরুতলাল শাহের প্রযোজনা সংস্থার অধীনে তৈরি, যেখানে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাখ্যা নারায়ণ সিংহ পরিচালনা দায়িত্বে আছেন। টিজারটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা প্রথম ভাগের তুলনায় অধিক তীব্রতা ও উত্তেজনা প্রকাশ করে।
ভিপুল অমরুতলাল শাহের নামটি ইতিমধ্যে বলিউড হাঙ্গামা সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় উল্লেখিত, কারণ তিনি “আঁখেন”, “নমস্তে লন্ডন”, “সিং ইজ কিংগ”, “ফোর্স”, “কম্যান্ডো: এ ওয়ান ম্যান আর্মি” ইত্যাদি সফল চলচ্চিত্রের পেছনে ছিলেন। তার প্রোডাকশন হাউসের কাজগুলো ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে এবং দ্য কেরালা স্টোরি ২-ও সেই ধারাকে অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কামাখ্যা নারায়ণ সিংহ, যিনি জাতীয় পুরস্কার অর্জনকারী পরিচালক, তার পূর্বের কাজগুলোতে সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক সংগ্রামকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন। এই প্রকল্পে তিনি প্রথম ভাগের তুলনায় আরও গভীর এবং জটিল বর্ণনা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন, যেখানে চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক চাপকে দৃশ্যমান করা হবে। তার দৃষ্টিভঙ্গি টিজারে স্পষ্ট, যেখানে অন্ধকারময় পরিবেশ ও তীব্র সাউন্ডস্কেপের মাধ্যমে গল্পের মর্মবিন্দু তুলে ধরা হয়েছে।
চিত্রে প্রধান চরিত্রে তিনজন হিন্দু মেয়ে—উল্কা গুপ্তা, আইশ্বর্যা ওঝা এবং আদিতি ভাটিয়া—অভিনয় করছেন। তারা প্রত্যেকেই গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যেখানে তাদের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ধর্মীয় রূপান্তরের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। পাশাপাশি, তিনজন মুসলিম পুরুষ চরিত্রের সঙ্গে তাদের সংযোগের ফলে ঘটমান জটিলতা টিজারে সংক্ষেপে দেখা যায়।
গল্পের মূল কাঠামোটি প্রেম, বিশ্বাস এবং মানসিক দুর্বলতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা ধীরে ধীরে প্রলুব্ধক ও ধোঁকাবাজি রূপে রূপান্তরিত হয়। টিজারটি দেখায় কীভাবে প্রেমের নামেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং তাদের পরিচয় ও বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মেয়েরা কেবল শিকার নয়, বরং নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াইয়ের পথে অগ্রসর হয়।
টিজারের দৃশ্যগুলোতে তীব্র উত্তেজনা, অশান্তি এবং দমিত রাগের ছাপ স্পষ্ট, যা দর্শকের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগের অনুভূতি জাগায়। প্রতিটি শটে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলোর মুখে দৃশ্যমান কষ্ট ও সংকল্পের মিশ্রণ দেখা যায়। এই ভিজ্যুয়াল স্টাইল প্রথম ভাগের তুলনায় অধিক তীব্রতা এবং গভীরতা প্রদান করে।
চিত্রের মূল স্লোগান “আব সহेंगे না… লড়ेंगे!” টিজারে পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা মেয়েদের আত্মপ্রতিষ্ঠা ও প্রতিরোধের মর্মকে প্রকাশ করে। এই নারা শুধু গল্পের থিমই নয়, বরং সামাজিক বার্তাও বহন করে, যেখানে ধর্মীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। স্লোগানটি দর্শকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা জাগাতে লক্ষ্য রাখে।
প্রথম ভাগ “দ্য কেরালা স্টোরি” দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, এবং দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সিক্যুয়েলটি সেই প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চায়, যেখানে কেবল শোক ও কষ্ট নয়, বরং প্রতিরোধ ও পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হবে। টিজারটি প্রকাশের পর থেকে মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে, যা মুক্তির পূর্বেই প্রচারকে তীব্র করেছে।
দর্শকদের জন্য এই চলচ্চিত্রটি শুধু বিনোদন নয়, বরং ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্বিবেচনার সুযোগ হতে পারে। মুক্তির তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট বুকিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সিনেমা হলের আসন নিশ্চিত করা যায়। দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড আপনার চিন্তাধারাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করবে, এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।



