দিল্লি হাইকোর্টে ১৬ ভারতীয় নাবিকের পরিবার জরুরি নির্দেশের আবেদন করেছে, কারণ ইরানে ডিকি করা তেলবাহী জাহাজে তাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক জলে MT Valiant Roar নামের তেলবাহী জাহাজ আটক করে, এবং ৬,০০০ মেট্রিক টন অবৈধ ডাইজেল বহন করার অভিযোগ তুলেছে; তবে জাহাজের মালিক, দুবাই ভিত্তিক Prime Tankers LLC, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই জাহাজে মোট ১৮ জন ক্রু ছিল, যার মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি এবং একজন শ্রীলঙ্কান নাবিক অন্তর্ভুক্ত। পরিবারগুলো দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে, যাতে সরকারকে দ্রুত কনসুলার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে এবং নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাখিলকৃত নথি অনুসারে, আটকে থাকা ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে ইরানের বন্দরাবাদ জেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে, আর বাকি ছয়জন এখনও জাহাজে রয়ে গেছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন ১০ গ্রেফতার নাবিকের কনসুলার সাক্ষাৎকার সম্ভব হয়েছে এবং তারা বন্দরাবাদ কারাগারে আটক রয়েছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি পক্ষ নৌকায় থাকা ছয়জন ভারতীয় নাবিকের কনসুলার প্রবেশাধিকার সহজতর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে তা নৌবাহিনীর ও প্রসিকিউটরের অনুমোদনের পরে সম্ভব হবে। পরিবারগুলো দাবি করে, নাবিকদের জাহাজের একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে, যেখানে যথাযথ খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে; একটিমাত্র ফোন ফেরত পেয়ে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছে।
ইরানের দিল্লি দূতাবাসে এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তৃত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ইরানি প্রেস সেক্রেটারি আহগা মাহদি এসফান্দিয়ারি ফোনে জানান, ভারতীয় নাবিকদের গ্রেফতার বা আটক সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য নেই। একই সময়ে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উচ্চকমিশনগুলোকে দিল্লিতে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে, যাতে তাদের নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া যায়।
এই ধরণের জাহাজ আটক আন্তর্জাতিক জলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে। পরিবার ও ভারতীয় সরকার উভয়ই দ্রুত কনসুলার সহায়তা ও নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেছে।
পরিস্থিতি এখনও অস্থির, ইরানি নৌবাহিনীর অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নাবিকদের মুক্তি নিশ্চিত করা কঠিন। তাই পরিবারগুলো ধারাবাহিকভাবে আদালতে আবেদন চালিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারকে কূটনৈতিক স্তরে জোরালো পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।



