26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরোটারড্যামে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডকুমেন্টারি ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কেম ফ্লাডিং ইন’ প্রদর্শিত

রোটারড্যামে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডকুমেন্টারি ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কেম ফ্লাডিং ইন’ প্রদর্শিত

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রোটারড্যামের ৫৫তম সংস্করণে ২০২২ সালের পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার বন্যা স্মরণ করিয়ে দেয়া একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডকুমেন্টারি ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কেম ফ্লাডিং ইন’ উপস্থাপিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দুই সৃষ্টিকর্তা, আইসাবেল নোয়েলস ও ভ্যান সোয়ারওয়াইন, এই প্রকল্পে বন্যার ধ্বংসের পরেও মানুষের অভ্যন্তরীণ জগতের সমৃদ্ধি তুলে ধরেছেন। রোটারড্যামের কাতোয়েনহুইস গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এই ইনস্টলেশনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্ট ডিরেকশন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারি ৮ পর্যন্ত চলবে।

গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে বন্যা বাড়ছে, আর টেলিভিশন ও অনলাইন ছবিগুলো মানুষের কাছে ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে। তবে বন্যা প্রত্যক্ষ না করা অধিকাংশ মানুষই এই দুর্যোগের সামাজিক ও মানসিক প্রভাবকে পুরোপুরি অনুভব করতে পারেন না। এই ফাঁক পূরণ করার লক্ষ্যেই ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কেম ফ্লাডিং ইন’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বন্যা আক্রান্তদের স্মৃতি ও অনুভূতি সরাসরি দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়।

প্রকল্পের মূল ধারণা হল বন্যা পরবর্তী শূন্যতা ও ধ্বংসের মাঝেও মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি, স্মৃতি ও আশা কীভাবে রয়ে যায় তা প্রকাশ করা। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের ২০২২ সালের বন্যা, যা বহু পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে বঞ্চিত করেছে, তার বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে এই ডকুমেন্টারিটি নির্মিত হয়েছে। সৃষ্টিকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত বর্ণনা গড়ে তুলেছেন, যা দর্শকের জন্য একধরনের মানসিক যাত্রা তৈরি করে।

ইনস্টলেশনটি কাতোয়েনহুইসের বড় হলের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ভিজিটররা হেডসেট পরিধান করে সম্পূর্ণ ভাসমান পরিবেশে প্রবেশ করেন। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্যার সময়ের ধ্বংসাবশেষ, পানির স্তর, এবং বেঁচে থাকা মানুষের মুখের অভিব্যক্তি পুনরায় তৈরি করা হয়েছে। দর্শকরা হেডসেটের মাধ্যমে ঘুরে বেড়াতে পারেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন এবং বন্যার পর পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার দৃশ্য দেখতে পারেন।

প্রতিটি দৃশ্যের সঙ্গে সংযুক্ত অডিও রেকর্ডিংয়ে বন্যা পরবর্তী জীবনের গল্প, সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কথা শোনা যায়। এই অডিও উপাদানগুলোকে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমগ্রিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং বন্যা-প্রভাবিত মানুষের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়।

‘দ্য ওয়ার্ল্ড কেম ফ্লাডিং ইন’ কেবল বন্যার ধ্বংসই নয়, বরং পুনরুদ্ধার ও আশার বার্তাও বহন করে। ইনস্টলেশনের শেষে দর্শককে একটি শান্তিপূর্ণ দৃশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পুনর্নির্মিত বাড়ি, সবুজ গাছপালা এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের সুর মিশে থাকে। এই অংশটি বন্যা পরবর্তী জীবনের পুনরুজ্জীবনকে চিত্রিত করে, যা দর্শকের মধ্যে পুনর্গঠন ও সহনশীলতার অনুভূতি জাগায়।

রোটারড্যামের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর একটি নতুন উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্যা-প্রভাবিত মানুষের অভিজ্ঞতা সরাসরি অনুভব করার মাধ্যমে দর্শকরা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাবকে আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। এই ধরনের ইমারসিভ আর্ট ফর্মটি ভবিষ্যতে আরও বেশি সামাজিক বিষয়কে সম্বোধন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, রোটারড্যামের কাতোয়েনহুইসে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডকুমেন্টারি বন্যা-প্রভাবিত মানুষের অভ্যন্তরীণ জগতের সমৃদ্ধি ও পুনর্গঠনের গল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। প্রযুক্তি ও শিল্পের সমন্বয়ে তৈরি এই অভিজ্ঞতা, বন্যা-পরবর্তী মানবিক দিককে তুলে ধরে, দর্শকের হৃদয়ে সহানুভূতি ও পরিবেশ সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments