26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধ১৩ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বাড়ছে

১৩ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বাড়ছে

দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে যে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাচ্ছেন।

গোয়েন্দা সংস্থা প্রকাশ করেছে যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরের হত্যাকাণ্ডে “দিলীপ ওরফে বিনাশ” নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ পেয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপন কার্যক্রম চালানোর প্রচেষ্টা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে বহু সন্ত্রাসী অপরাধী জামিনে মুক্তি পেয়ে দলবদ্ধ হয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে চাঁদার হার নির্ধারণে লিপ্ত হয়েছে। ফলে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে পলাতক সন্ত্রাসীরা দলীয় পরিচয় গ্রহণের চেষ্টা বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুজন রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে থাকার দাবি করে গোপনভাবে সংগঠন গঠন করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারগুলো সত্ত্বেও, নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্রতর করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, দেশ-বিদেশে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ না পেতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অংশগ্রহণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পুলিশ শাখা দেখছে।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে কিছুজন বিদেশে পালিয়ে গেছে, অন্যরা দেশে গোপনভাবে অবস্থান করছে। তারা যে কোনো স্থান থেকে অপতৎপরতা চালাতে সক্ষম বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অন্তত বারোজন শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশ থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান কলিন্স ও গোলাম রসুল যুক্তরাষ্ট্রে, তাজ মালয়েশিয়ায়, ইব্রাহিম ইউরোপে এবং কিলার আব্বাস ও জিসান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন।

পুলিশের মতে, এই সন্ত্রাসীরা দেশীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ক্ষমতা বাড়ানো।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা দল গঠন করে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, রাজনৈতিক সমাবেশ ও গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া, তথ্য সংগ্রহের জন্য সাইবার পর্যবেক্ষণ ও গোপন তথ্য বিশ্লেষণ বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের দিন কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সুযোগ না পেতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

বৈধ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আর্থিক প্রবাহ বন্ধ করতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে সতর্ক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments