বগুড়ার চার‑তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমে শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উপস্থিতদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। একই সময়ে উপস্থিত শিশুরা হস্তশিল্প পণ্য উপহার পায় এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’ গান গেয়ে শোনায়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার সরবরাহ করা হয়। হুইলচেয়ারগুলো সিএসএফ গ্লোবাল (CSF Global) নামক সংস্থার সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে। অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সঞ্চালনা সিএসএফ গ্লোবালের চেয়ারম্যান এম এ মুহিত করেন।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান উপস্থিতদের প্রশংসা করে বলেন, “এখানে যারা উপস্থিত আছে, যারা গান গেয়েছে, কবিতা recited করেছে, তারা আমাদের সমাজের অমূল্য সম্পদ। আমাদের সমাজে প্রায়শই এই মানুষদের ঘরের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে এমন গুণাবলি আছে যা সাধারণ মানুষেও নেই।” তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু‑কিশোরদের প্রতি সমর্থন বাড়াতে আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, “যদি আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে এই মানুষদের পাশে দাঁড়াই, বাংলাদেশ বিশাল প্রতিভা উন্মোচন করতে পারবে।”
তারেক রহমানের বক্তব্যে তিনি ন্যূনতম ব্যবস্থা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যাতে এই শিশুরা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, “অত্যধিক কিছু করার দরকার নেই, শুধু তাদের চলাচল ও শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করলেই হবে। তারা আমাদের সমাজের অন্তর্ভুক্ত, তারা আমাদের বাইরে নয়।” এভাবে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও সমান সুযোগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোররা সিএসএফ গ্লোবালের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করে উপস্থাপন করে। তাদের মধ্যে কিছু শিশু হুইলচেয়ার ব্যবহার করে গান গেয়েছে, যা উপস্থিতদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে। হস্তশিল্প পণ্যগুলো স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগের প্রতি সিএসএফ গ্লোবালের প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, “এই ধরনের সমাবেশ ও বিতরণ কার্যক্রম বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সামাজিক সংহতি বাড়ায় এবং তাদের আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলে।”
অন্যদিকে, ruling party আওয়ামী লীগ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অনুষ্ঠানের পর কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের এমন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশল হতে পারে, তবে তারা এই দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার জন্য কোনো সরকারী নীতি বা বাজেটের উল্লেখ করেননি।
এই বিতরণ ও মতবিনিময় সভা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু‑কিশোরদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিতদের মতে, হুইলচেয়ার ও প্রশিক্ষণ সুযোগের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে। তদুপরি, রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের প্রকাশ্য সমর্থন সমাজে প্রতিবন্ধী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে তারেক রহমান সকল উপস্থিতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা যদি একসাথে কাজ করি, তবে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হতে পারে যেখানে প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে।” তিনি ভবিষ্যতে আরও সমাবেশের পরিকল্পনা ও সরকারী স্তরে নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে, সিএসএফ গ্লোবাল ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।



