ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের কুইলিফায়ার ম্যাচে শুক্রবার ট্রিবুভন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল স্কটল্যান্ডকে ১৯১ রান দিয়ে আটকে ৯০ রনের পার্থক্যে পরাজিত করে ছয়তম জয় নিশ্চিত করেছে। এই জয় দলকে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক জয়ের শৃঙ্খলায় যুক্ত করেছে।
বুধবার থাইল্যান্ডের ওপর জয়লাভের মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিট ইতিমধ্যে নিশ্চিত হওয়ার পর দলটি আবারও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামল। জয়লাভের পরেও দলটি জোরালো পারফরম্যান্স বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে কঠিন অবস্থায় রাখল।
বাটিংয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ১৯১ রানে পাঁচ উইকেটের সঙ্গে শেষ করে শক্তিশালী স্কোর স্থাপন করেছে। টস জয়ী হয়ে প্রথমে ব্যাটিং করা দলটি দ্রুত রানের গতি বাড়িয়ে তুলেছে।
ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি, যিনি টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফর্মের সমস্যায় ছিলেন, ৩৫ বলের মধ্যে অচল ৫৬ রান করে দলের শীর্ষে ছিলেন। তার আক্রমণাত্মক শটের মধ্যে পাঁচটি চতুর্থ এবং তিনটি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত।
প্রারম্ভিক দুই ব্যাটসম্যান দিলারা আক্তার ও জুয়ারিয়া ফেরদৌস প্রথম আট ওভারে ৬৭ রান যোগ করে দলকে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে। উভয়ের সমন্বয় স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।
দিলারা ২৮ বলে ৩৯ রান করে আত্মসমর্পণ করেন, আর জুয়ারিয়া নবম ওভারে এক রান এক বলের গতি বজায় রেখে ২২ রান করে আউট হন। উভয়ের অবদান দলকে শক্তিশালী শুরুর প্ল্যাটফর্ম দেয়।
শারমিন আক্তার ১৫ রান করে রান-আউট হন, তবে জোটি শীর্ষে থেকে সোবানা মোস্তারীর সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। সোবানা দ্রুতগতিতে ২৩ বলে ৪৭ রান করে দলের স্কোরকে আরও বাড়িয়ে তোলেন।
জোটি ও সোবানা একসাথে চতুর্থ উইকেটে ১০০ রান যোগ করে দলকে দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসে। তাদের সংযোজিত পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত স্কোরকে ১৯১ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
বোলিংয়ে মারুফা আক্তার প্রথম বলেই স্কটল্যান্ডের ডার্সি কার্টারকে আউট করে তৎক্ষণাৎ প্রভাব ফেলেন। তার পরের ওভারগুলোতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট নেন, যা স্কটল্যান্ডের শিকড়কে দুর্বল করে।
মারুফা শেষ পর্যন্ত ২৫ রানেই তিনটি উইকেট নেন, যা দলের রক্ষার মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। শর্ণা আক্তারও দুইটি উইকেট নিয়ে স্কটল্যান্ডের স্কোরকে সীমিত রাখতে সহায়তা করেন।
স্কটল্যান্ড ৯ ওভারে ১০১ রান করে নয়টি উইকেটের সঙ্গে শেষ করে, ফলে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বড় পার্থক্যে জয়লাভ করে। এই জয় দলকে টুর্নামেন্টে শীর্ষে রাখে এবং পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।
দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে এবং পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।



