ব্যালেন্টাইন সপ্তাহে রোমান্সের শৌখিনদের জন্য এক বিশেষ খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০০২ সালে প্রথমবার মুক্তি পাওয়া হিন্দি রোম্যান্স-অ্যাকশন ছবি ‘যেহ দিল আশিকানা’ ২৪ বছর পর আবার বড় স্ক্রিনে ফিরে আসবে। ট্রু এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ঘোষণামতে, ছবিটি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সারা দেশের সিনেমা হলগুলোতে প্রদর্শিত হবে।
প্রথমবারের মতো এই চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালের গ্রীষ্মে কণ্ঠস্বর ও সঙ্গীতের সমন্বয়ে তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকাদের হৃদয় জয় করেছিল। সেই সময়ের হিট গানের সুরে কণ্ঠে কিরণ নাথ ও জিভিদা শর্মার পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ছবির মূল দায়িত্বে ছিলেন পরিচালক কুকু কোহলি, যিনি ‘ফুল অর কান্টে’ সহ বহু বাণিজ্যিক হিটের পেছনে ছিলেন।
নতুন ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ছবির পুনর্নির্মাণের কিছু মূল দিক প্রকাশ পেয়েছে। ট্রেলারটি মূল কাহিনীর রোমান্স ও অ্যাকশন উপাদান বজায় রেখে আধুনিক ভিজ্যুয়াল স্টাইলের ছোঁয়া যোগ করেছে। এতে পুরনো দৃশ্যগুলোকে তীক্ষ্ণ রঙে পুনরায় রঙিন করা হয়েছে এবং অডিও মিক্সকে বর্তমানের সাউন্ড সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
প্রযোজকরা জানান, ছবিটি পুনরায় সম্পাদনা করে আজকের দর্শকের রুচি ও প্রত্যাশার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মূল গল্পের হৃদয়স্পর্শী রোমান্স ও তীব্র অ্যাকশন দৃশ্যগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যাতে মূল ভক্তদের নস্টালজিয়া বজায় থাকে।
কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে কিরণ নাথের চরিত্র, যাকে ‘করণ’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি এক তরুণ প্রেমিক, যিনি তার প্রিয় পুজার (জিভিদা শর্মা) জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত। গল্পের মোড় নেয় যখন করণকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করতে হয়, যাতে পুজাকে রক্ষা করে তার সঙ্গে বিবাহের স্বপ্ন পূরণ করা যায়। এই সংগ্রাম ও ত্যাগের মিশ্রণই ছবির মূল আকর্ষণ।
প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি ছবিতে আদিত্য পাঞ্চোলি, রাজত বেদি, জনি লেভার এবং অরুণা ইরানি সহ একটি শক্তিশালী সাপোর্টিং কাস্ট রয়েছে। এই অভিনেতারা প্রত্যেকটি দৃশ্যে নিজস্ব স্বাদ যোগ করে, যা ছবির সামগ্রিক গুণগত মানকে সমৃদ্ধ করে।
ট্রু এন্টারটেইনমেন্টের শৈলেন্দ্র ম্যান্ডোয়ারা পুনরায় মুক্তির বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, তিনি বলেন যে কিছু চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র থিয়েটারে পাওয়া যায় এবং ‘যেহ দিল আশিকানা’ তারই একটি উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ছবিটি কখনো স্যাটেলাইট বা OTT প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়নি, যা দর্শকদেরকে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ নিশ্চিত করে।
প্রযোজক সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে একটি সচেতন পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে, যাতে আধুনিক সময়ের দর্শকরা পুরনো ক্লাসিকের আসল রূপ উপভোগ করতে পারেন। তারা আরও জানিয়েছেন যে পূর্বে ‘তুজে মেরি কাসাম’ ছবির পুনঃমুক্তি বিশাল সাড়া পেয়েছে, যা এই নতুন প্রচেষ্টার জন্য আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করেছে।
‘তুজে মেরি কাসাম’ পুনরায় মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে ক্লাসিক হিন্দি রোম্যান্সের প্রতি এখনও তীব্র আগ্রহ রয়েছে। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে ‘যেহ দিল আশিকানা’কে আবার বড় পর্দায় আনা স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রযোজকরা আশা প্রকাশ করেন যে ভ্যালেন্টাইন ডে’র আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই রোমান্স-অ্যাকশন মিশ্রণটি প্রেমিক-প্রেমিকাদের হৃদয়ে নতুন উষ্ণতা জাগাবে। ছবির পুনরায় প্রদর্শন কেবল নস্টালজিয়া নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে।
সিনেমা হলগুলোতে এই পুনরায় মুক্তি দর্শকদেরকে পুরনো দিনের রোমান্সের স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগের সুযোগ দেবে। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে প্রেমের উদযাপনকে আরও রঙিন করে তুলতে ‘যেহ দিল আশিকানা’ বড় পর্দায় ফিরে আসছে, যা সিনেমা প্রেমিকদের জন্য একটি বিশেষ উপহার।



