বগুড়ার একটি হোটেলে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য চেয়ারগিরি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী শিশুরা ও কিশোর-কিশোরীদের মর্যাদা রক্ষার জন্য সমগ্র সমাজের সমবায়িক দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানটি অ-সরকারি সংস্থা CSF Global আয়োজন করে, যা তারেকের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল প্রতিবন্ধী শিশুরা যেন সমাজে স্বীকৃত ও সম্মানিত অবস্থানে থাকতে পারে।
তারেক রহমান উপস্থিতিতে একটি শপথের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজ আমরা সবাই আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিই। একসাথে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রত্যেক মানুষ, যেভাবেই হোক না কেন, মর্যাদা পাবে এবং আত্মসম্মান বজায় থাকবে।”
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, “এতে বেশি কিছু দরকার নেই; শুধু সুযোগ-সুবিধা দরকার, যাতে তারা অন্য সকলের মতোই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। মৌলিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে তারা নিজেদের প্রকাশ করতে পারবে, কারণ তারা আমাদেরই অংশ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুবাইদা রহমানও শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শিশু হল দেশের ভবিষ্যৎ, এবং এই শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নির্মাতা হবে। আমাদের পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্বাস্থ্যকর পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।”
তিনি আরও BNP’র ‘ওয়ান টেপ ওয়ান টিচার’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রোগ্রামগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, “জ্ঞান আলোর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তারা ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি করবে।”
CSF Global এই চেয়ারগিরি বিতরণকে একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে বর্তমান প্রশাসনের এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিবন্ধী অধিকার সংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সরকারী দায়িত্বের কথা প্রায়ই আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।
তারেকের এই আহ্বান ও জুবাইদার মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপি’র সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রচার হিসেবে দেখছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে।
বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমবায়িক দায়িত্বের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকে এই ধরনের কার্যক্রমের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কী হবে তা এখনও নির্ধারিত হবে, তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রতিবন্ধী শিশুরা ও তাদের পরিবারকে স্বীকৃতি ও সমর্থন প্রদান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



