ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণের বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার নতুন রাজনৈতিক থ্রিলার ‘প্রোজেক্টো গ্লোবাল’ বিশ্বপ্রদর্শনী পেল। লেখক‑নির্দেশক ইভো এম. ফার্নান্দেজের এই কাজটি ১৯৭০‑এর দশকের ইউরোপীয় রাজনৈতিক সহিংসতার পটভূমিতে গড়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশেই সশস্ত্র প্রতিরোধের আন্দোলন সক্রিয় ছিল।
পর্তুগালের ক্ষেত্রে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্তকে “বছরের লেড” নামে অভিহিত করা হয়, যখন দেশটি বামপন্থী বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। ঐ সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য গোষ্ঠী ছিল ফোর্সাস পপুলারেস ২৫ দে আব্রিল (FP‑25), যার নেতৃত্বে ছিলেন ওটেলো সারাইভা দে কারভালহো, যিনি ১৯৭৪ সালের কার্নেশন রেভোলিউশনের প্রধান চরিত্রগুলোর একজন।
FP‑25 গোষ্ঠী তাদের লক্ষ্যকে রক্ষার নামে ব্যাংক ডাকাতি, নির্দিষ্ট ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড এবং লিসবনের বন্দর থেকে ন্যাটো জাহাজে গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন হিংসাত্মক কাজ করেছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ‘প্রোজেক্টো গ্লোবাল’ গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আদর্শের বিচ্ছিন্নতা তুলে ধরেছে।
চলচ্চিত্রটি তিনজন মূল চরিত্রের গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে: রোজা, কুইরোজ এবং জাইমে, যাদের সঙ্গে রোজার প্রাক্তন প্রেমিক মার্লোও মুখোমুখি হয়। গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে স্বার্থ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আদর্শের টানাপোড়েন কিভাবে তাদের মূল লক্ষ্যকে ঝাপসা করে দেয়, সেটিই ছবির মূল থিম।
‘প্রোজেক্টো গ্লোবাল’ এ জানি ঝাও, রড্রিগো টোমাস এবং জোসে পিমেন্টাও প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাদের পারফরম্যান্স গোষ্ঠীর জটিল মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিত্রনাট্যটি ইভো এম. ফার্নান্দেজ এবং হেল্ডার বেজা একসাথে রচনা করেছেন। দুই লেখকের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানকে সুনিপুণভাবে মিশ্রিত করেছে, যা দর্শকের জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন লুইস উর্বানো, স্যান্ড্রো আগুইলার এবং ডোনাটো রোটুনো। প্রধান প্রযোজনা সংস্থা ‘ও সোম ই আ ফুরিয়া’ এবং সহ-প্রযোজক ‘ট্যারান্টুলা’ এই প্রকল্পকে সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক বিক্রয় কাজটি ‘দ্য ম্যাচ ফ্যাক্টরি’ পরিচালনা করছে, যা ছবির বিশ্বব্যাপী বিতরণে সহায়তা করবে।
নির্দেশকের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ছবিটি সমতা ও স্বপ্নের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে, যেখানে বাস্তবতার সঙ্গে আদর্শের সংঘর্ষে মানুষকে স্বীকার করতে হয় পরাজয়, আপস এবং ত্যাগের কঠিন বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের উচ্ছ্বাস এবং ধীরে ধীরে আসা হতাশার মধ্যে মানবিক দিকগুলোকে তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
‘প্রোজেক্টো গ্লোবাল’ রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে থ্রিলার শৈলীর সঙ্গে যুক্ত করে, ফলে দর্শককে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ গতির অ্যাকশন ও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের অভিজ্ঞতা দেয়। ছবির গতি, সাউন্ড ডিজাইন এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইল ঐ সময়ের অশান্তি ও অস্থিরতা পুনরায় জীবন্ত করে তুলেছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এই কাজটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এটি ইউরোপের সাম্প্রতিক অতীতকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে এবং রাজনৈতিক আদর্শের বাস্তবিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেয়।
রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালে ‘প্রোজেক্টো গ্লোবাল’ এর বিশ্বপ্রদর্শনী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নতুন আলোচনার সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি যদি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়, তবে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।



