অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে ভারত এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছে, ফলে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ডিসেম্বর মাস থেকে ভারত এ তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার এই পরিস্থিতি গুরুতর বলে উল্লেখ করে, সরকারটি ভাইরাসের গতিবিধি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে।
মার্ক বাটলার মিডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাতে বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি ভাইরাস, তাই আমরা এটিকে হালকাভাবে দেখছি না।” তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টাকে স্বীকার করে, তবু অস্ট্রেলিয়া দল এখনও সতর্কতা বজায় রাখছে।
ইংল্যান্ডের আপত্তি সম্পর্কে পাকিস্তানের জিএনএন এইচডি রিপোর্ট করেছে যে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ইতোমধ্যে ভারত এ ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই প্রকাশের পেছনে নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার এবং খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিসি এখন দুটি বড় দল প্রত্যাখ্যান করলে ভেন্যু পরিবর্তনই একমাত্র সমাধান হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি মূলত সময়সীমা ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রীলঙ্কায় ভারত এ বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল, তবে আইসিসি এখন আর ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে শ্রীলঙ্কা একমাত্র সহ-আয়োজক হিসেবে রয়ে গেছে।
নিপা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তীব্রতা পেয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আইসিসি কর্তৃপক্ষের শেষমেশ নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ভেন্যু চূড়ান্ত করা হবে।
আইসিসি এখনো ভেন্যু পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করেনি, তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শিডিউল পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। দলগুলোকে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ভ্রমণ সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিশ্বকাপের সময়সূচি এবং অন্যান্য দলের প্রস্তুতি এখনও নির্ধারিত, তবে নিপা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে ম্যাচের তারিখ, স্থান এবং দর্শক সংখ্যা নিয়ে পুনরায় আলোচনা হতে পারে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের লক্ষ্য হল খেলোয়াড় ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের নিপা ভাইরাস উদ্বেগ, আইসিসি-র ভেন্যু পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিশ্বকাপের আয়োজনকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা ক্রীড়া জগতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।



