সৌদি আরবের প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকার একমুখী টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০,৫০০ টাকায় নির্ধারণ করেছে। এই ব্যবস্থা ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত সৌদি থেকে বাংলাদেশে ফেরার জন্য কার্যকর হবে। একই সময়ে, ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার জন্যও একই মূল্যের টিকিট প্রযোজ্য হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অফিস থেকে প্রকাশিত বার্তায় এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের আর্থিক স্বস্তি প্রদান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার আয় বাড়ানোর লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের পেছনে হজ ফ্লাইটের সময় একমুখী ফাঁকা ফ্লাইটের ব্যবহারকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০,৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। রিটার্ন টিকিটের ক্ষেত্রে মদিনা-ঢাকা-মদিনা এবং জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২,০০০ টাকা হবে। এই মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রবাসীরা হজ মৌসুমের উচ্চ মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পাবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, মোট ৮০,০০০ টিকিট এই সুলভ মূল্যে বিক্রি করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। তিনি বলেন, হজ ফ্লাইটের সময় একমুখী ফাঁকা আসনগুলোকে ব্যবহার করে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিট মুনাফা একশো কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
সৌদি আরবের হজ মৌসুমে বিমানগুলো প্রায়শই একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট চালায়, যা এয়ারলাইনসের জন্য আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করে। নতুন টিকিট পরিকল্পনা এই ফাঁকা আসনগুলোকে পূরণ করে আয় বৃদ্ধি করবে এবং একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভ্রমণ ব্যয় কমাবে। ফলে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক অবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত রুট সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে প্রবাসী শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। সাশ্রয়ী টিকিটের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের মুদ্রা রিজার্ভে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে, বিমান টিকিটের চাহিদা বাড়ার ফলে এয়ারলাইনসের সেবা মান ও নেটওয়ার্ক উন্নত করার চাপ বাড়বে।
তবে, নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরে সাধারণ ভাড়া প্রযোজ্য থাকবে, যা বাজারে মূল্য পার্থক্য বজায় রাখবে। সরকার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও টিকিটের মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আয় নিশ্চিত হয়।
সারসংক্ষেপে, ২০,৫০০ টাকার একমুখী টিকিটের চালু হওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক স্বস্তি এবং বিমান শিল্পের জন্য নতুন আয় উৎস উভয়ই তৈরি করবে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে অনুরূপ সাশ্রয়ী ভ্রমণ পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।



