প্রসিদ্ধ গায়ক অরিজিত সিং গানের জগতে দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর, সম্প্রতি গায়ন থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে গানের কাজ থেকে সরে গিয়ে, সমাজের নীচু স্তরের মানুষের কল্যাণে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার ভক্ত ও শিল্প জগতের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অবসর ঘোষণার পর অরিজিত স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি গানের রেকর্ডিং বন্ধ করবেন না; বরং চলচ্চিত্রের জন্য সুর রচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সুরকার হিসেবে তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, যদিও মঞ্চে গাওয়া বন্ধ হবে। এই দ্বৈত ঘোষণা তার ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কেউ তার সুরের ধারাবাহিকতা নিয়ে আশাবাদী, আবার কেউ গায়কের অভাব অনুভব করছেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অরিজিতের আগ্রহের মূল কারণ হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে উপযুক্ত মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি যে নিজের দল গঠন করবেন নাকি বর্তমান সময়ের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হবেন। উভয় পথই তার নীতি ও লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার নিকটস্থ বন্ধু অরিজিতকে ‘সন্ত’ বলে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি বিশাল সম্পদ সঞ্চয় করলেও তা নিজের জন্য ব্যবহার না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যয় করেন। এই দাতব্য কার্যক্রমের ফলে তিনি সমাজে এক ধরনের নীরব নায়কের ভূমিকায় আছেন। তার এই দাতব্য মনোভাবকে অনেকেই তার গানের সুরের মতোই হৃদয়গ্রাহী বলে প্রশংসা করেন।
অরিজিত সিং ২০১১ সালে সঙ্গীত জগতে প্রবেশের পর থেকে দ্রুতই শীর্ষ গায়কের মর্যাদা অর্জন করেন। তার কণ্ঠস্বর ও সুরের সংমিশ্রণ ভারতীয় সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং দেশের সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা পেয়েছে। তার গানের তালিকায় বহু হিট গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সুরের অবদান রয়েছে, যা তাকে বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গান ছেড়ে রাজনৈতিক পথে অগ্রসর হওয়ার তার সিদ্ধান্তের পর ভক্তদের মধ্যে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ভক্ত তার নতুন দায়িত্বে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের জন্য তার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু ভক্ত গানের জগতে তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মিডিয়ায় তার নামের সঙ্গে বিভিন্ন মতামত ও শুভেচ্ছা মিশ্রিত হয়েছে, যা তার বহুমুখী পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভবিষ্যতে অরিজিত সিং কীভাবে তার সঙ্গীত ও রাজনৈতিক কার্যক্রমকে সমন্বয় করবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি সুরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। এই দ্বৈত পথের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলতে চান, যা তার শিল্পী ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে একত্রে প্রকাশ করবে। সময়ের সাথে সাথে তার এই নতুন যাত্রা কী রকম ফলাফল দেবে, তা সকলের নজরে থাকবে।



