26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী দুই দলে গুলিবিনিময়, বাসিন্দা আতঙ্কে

কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী দুই দলে গুলিবিনিময়, বাসিন্দা আতঙ্কে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা, বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী দুই দলে গুলিবিনিময় ঘটেছে। গুলির শব্দ শোনা মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে পা ফেলেছেন এবং নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বহু বছর ধরে মানব পাচার কার্যক্রমে জড়িত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই অঞ্চলে নিয়মিত সংঘর্ষের রেকর্ড রয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত বুধবার রাতেও একই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল, তবে সেই সময়ে কোনো বড় ধাক্কা বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। গুলির পুনরাবৃত্তি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয় বাড়িয়ে তুলেছে এবং এলাকায় চলাচল সীমিত করে দিয়েছে।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইলিয়াস জানান, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুম্মাপাড়া এলাকার পূর্ব পাহাড়ে সন্ত্রাসী দুই দলে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। আগের দিনই সন্ধ্যায় একই স্থানে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল, ফলে আমাদের এলাকায় মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় মানুষ রাতে বাড়ি থেকে বের হতে দ্বিধা করে এবং প্রয়োজনীয় কাজের জন্যও দূরবর্তী স্থানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর পর জানান, “সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর আহতের রিপোর্ট না থাকলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।” তিনি যোগ করেন, গুলিবিনিময়ের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট দলে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে তদন্ত চলমান।

বাংলাদেশ পুলিশ গুলিবিনিময়ের পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পেট্রোলিং শুরু করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রক্ষী মোতায়েন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিনিময়ের সময় কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হয়নি, তবে গুলির শব্দের ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা এখনো এলাকায় উপস্থিত রয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

স্থানীয় প্রশাসনও গুলিবিনিময়ের পরপরই জরুরি সভা করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে। সভায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানব পাচার গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াইই এই ধরনের গুলিবিনিময়ের মূল কারণ হতে পারে। তাই, ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ রোধে বিশেষ নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়ানো হবে।

অধিকাংশ বাসিন্দা এখনো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং রাতে বাড়ি ছাড়তে অনিচ্ছুক। কিছু পরিবার সাময়িকভাবে নিকটস্থ শহরে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছে, তবে স্থানীয় সেবা কেন্দ্রের সীমিত সক্ষমতার কারণে তা সহজে সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও আতঙ্ক কমাতে তথ্য প্রচার এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করছে।

বাংলাদেশ পুলিশ এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল গোষ্ঠীর সদস্যকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গুলিবিনিময়ের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং গুলি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয় নির্ধারণে সহায়তা করবে। এছাড়া, গুলিবিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান রেকর্ড করে ভবিষ্যতে সমজাতীয় ঘটনা রোধে কৌশল তৈরি করা হবে।

অধিকাংশ নিরাপত্তা কর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একত্রে কাজ করে এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট। তারা বাসিন্দাদেরকে নিরাপদে চলাচল করার জন্য নির্দিষ্ট রুট এবং সময়সূচি জানিয়ে দিচ্ছেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায়। পাশাপাশি, স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও মানসিক চাপের জন্য পরামর্শদাতা সেবা চালু করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় সরকার এবং বাংলাদেশ পুলিশ উভয়ই একত্রে কাজ করে এলাকার নিরাপত্তা অবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনায় গুলিবিনিময়ের মূল কারণ, অর্থাৎ মানব পাচার গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, তা দমন করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পুলিশ সকল বাসিন্দাকে অনুরোধ করছে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা তৎক্ষণাৎ জানাতে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং অতিরিক্ত ক্ষতি রোধ করা যায়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments