ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করে, দুইটি শর্ত পূরণে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গালফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বৃহৎ জাহাজবহর পাঠের কথা উল্লেখ করে, যদি এই শর্তগুলো পূরণ না হয় তবে জাহাজ ব্যবহার করতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই মন্তব্যটি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনীচিত্রের প্রিমিয়ারে করা হয়।
ট্রাম্পের মতে, ইরানকে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত প্রতিবাদকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা হাজার হাজার মানুষ নিহত হচ্ছে। এই দুই শর্ত পূরণে ইরান সম্মত না হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী জাহাজগুলো ইতিমধ্যে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ট্রাম্পের একই সপ্তাহে ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি ইরানকে টেবিলে বসার এবং ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার দ্রুততা ও ন্যায়সঙ্গততা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, এবং উল্লেখ করেন যে পারমাণবিক অস্ত্রের অনুপস্থিতি চুক্তির মূল শর্ত।
এর পাশাপাশি, ট্রাম্প একটি বিশাল নৌবাহিনীর গঠনকে ইরানের দিকে পাঠানোর ইঙ্গিত দেন, যা দ্রুত এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করে মিশন সম্পন্ন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, এই নৌবাহিনী প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। এই সতর্কতা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে ট্রিগার হাতে রেখে আছে এবং কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি যুক্তি দেন, ইরান কোনো ধরনের জোরপূর্বক বা হুমকির মুখে না গিয়ে সমান শর্তে পারমাণবিক চুক্তি স্বাগত জানাবে।
আরাঘচি আরও যোগ করেন, ইরান একটি পারস্পরিক উপকারী, ন্যায়সঙ্গত এবং সমান শর্তের পারমাণবিক চুক্তি চায়, যা ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারকে নিশ্চিত করবে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম গরাইবাবাদি উল্লেখ করেন, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে না, যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সমঝোতা গঠনের কোনো সূচক নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বে ইরানের প্রতিবাদকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যদি ইরানের কর্তৃপক্ষ সহিংসতা ব্যবহার করে তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করবে। এই মন্তব্যটি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময়ে করা হয়।
প্রদর্শনাগুলো ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানের মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের পর শুরু হয়, যা অর্থনৈতিক চাপের ফলে জনমতের অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে এই প্রতিবাদগুলো ধর্মীয় নেতৃত্বের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসি-কে জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা প্রতিবাদকারীদের উপর গৃহীত কঠোর দমনকাঠামো পূর্বের কোনো দমন নীতি থেকে আলাদা, এবং এটি জনগণের মধ্যে গভীর ভয় ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া উভয়ই গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা গতিবিধি পরিবর্তন করতে পারে। যদি ইরান শর্তগুলো মেনে না চলে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। অন্যদিকে, পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার অগ্রগতি না হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত এবং ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া উভয়ই গালফের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত শর্তগুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে।



