শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ভ্রমণ সহজ করার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক শাটল কার সেবা শুরু হয়েছে। পরিষেবা প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্বোধন করা হয়, এবং ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে প্রতি যাত্রী ৫ টাকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন‑১ এর সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপাচার্য অধ্যাপক এ.এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী শাটল কারের চালু হওয়া ঘোষণা করেন। তিনি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার নতুন দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সবুজ পরিবহন নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের প্রয়োজন, এবং ইলেকট্রিক শাটল কার এই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ একটি ইলেকট্রিক শাটল কার উপহার হিসেবে প্রদান করেছে। শিগগিরই আরও দুটি শাটল কার বেসরকারি সংস্থার দান হিসেবে যুক্ত হবে, যা ক্যাম্পাসের পরিবহন ক্ষমতা বাড়াবে।
শাটল কারগুলো প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে। সেবা শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা‑৭১ এলাকা থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত, যেখানে শিক্ষার্থীরা এই রুটে যাতায়াতের জন্য শাটল ব্যবহার করতে পারবে।
পরিবহন বিভাগ উল্লেখ করেছে, শাটল কারের ভাড়া প্রতি যাত্রী ৫ টাকা নির্ধারিত, যা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবহন নিশ্চিত করবে। এই মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্য হল অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে সুবিধা প্রদান করা।
উপ‑উপাচার্য অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তিনি ক্যাম্পাসভিত্তিক যাতায়াতে শাটল কারের সংযোজনকে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর কল্যাণকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় বলে জোর দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক এ.ফ. এম. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসমাইল হোসেন, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক এছাক মিয়া, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মো. আবদুল কাদির এবং মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহন প্রশাসক জাকারিয়া জানান, সরকারী নীতি অনুযায়ী এই ধরনের ইলেকট্রিক গাড়ি কেনা বর্তমানে অনুমোদিত নয়, তাই বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ক্রয় করতে পারছে না। তবে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত দুইটি শাটল কারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আরও দুটি গাড়ি পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বাকি দুইটি শাটল কারকে ছেলে ও মেয়েদের হল পর্যন্ত চালু করা হবে, যাতে ক্যাম্পাসের সব গন্তব্যে সেবা পৌঁছাতে পারে। এভাবে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শাটল কারের ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাত্রা উপভোগ করতে পারবে। এই সেবা ব্যবহার করে গাড়ি পার্কিং জ্যাম কমবে এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: শাটল কারের সময়সূচি মেনে চললে দেরি কমবে এবং ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হবে। আপনি কি এই নতুন সেবা ব্যবহার করে আপনার দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে চান?



