শেরপুরের শেরপুর সদর থানা থেকে নিযুক্ত সহকারী উপ-ইনস্পেক্টর শাহীনের ইসলাম, ৪৩ বছর বয়সী, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টায় তার ভাড়া বাড়ির শোবার ঘরে লম্বা ছাদ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দেহটি পাওয়া যায় যখন পরিবারিক সদস্যরা লক করা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। শাহীনের স্ত্রী মাকসুদা পারভিন ও সন্তানকে নিয়ে তিনি সকাল ১১টায় গ্রাম বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।
শাহীনের কাজের শিফট শেষ হয়ে দুপুর প্রায় ২টায় বাড়ি ফিরে আসেন। সন্ধ্যায় তার স্ত্রী ও আত্মীয়দের ফোনে কোনো উত্তর না পেয়ে তারা রাতের দিকে বাড়িতে ফিরে এসে বারবার কলের উত্তর না পেয়ে দরজা জোর করে খুলে দেহটি আবিষ্কার করেন।
মাকসুদা পারভিন জানান, শাহীনের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার জন্য তিনি নিয়মিত চিকিৎসা করাতেন এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান জানান, দেহটি তৎক্ষণাৎ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মিজানুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, শাহীনের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তদন্তের প্রয়োজন হবে।
পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহীনের কর্মজীবন মাত্র সাত মাসের, যখন তিনি শেরপুর সদর থানায় যোগদান করেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানসহ ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।
দেহের অবস্থান ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
শেরপুর পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মৃতদেহকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।
শাহীনের পরিবার এখন শোকাহত, এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শেরপুরে এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, শাহীনের মৃত্যুর তদন্ত চলমান এবং ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



