দক্ষিণ আফ্রিকা এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৫ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ২২১ রান করে শেষ করেছে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৫ বাকি বলেই চেজ সম্পন্ন করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে।
কোচ শুক্রি কনরাডের তত্ত্বাবধানে দলটি পাঁচটি ধারাবাহিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ পরাজয়ের পর অবশেষে জয় পেয়েছে। এই জয়টি দক্ষিণ আফ্রিকা এ প্রথমবারের মতো ক্যারিবিয়ান দলকে ঘরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অর্জিত, যা দেশের মাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কুইন্টন ডি কক এই ম্যাচে ১১৫ রান করে তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস রেকর্ড স্থাপন করেছে। তিনি ৪৯ বলের মধ্যে ১০টি চতুর্থকোণ এবং একটি ছক্কা মারেন। ডি কক বললেন, “কিছু ব্যাট ভুলে বাড়ি নিয়ে এসেছি, তাই ব্রেভিসের ব্যাট ব্যবহার করতে হয়েছে। তিনি বললেন, ‘এটা বেশ ভালো ব্যাট, বাঁহাতির ব্যাটই দিয়েছি!’ যদিও আমি বাঁহাতির ব্যাটের অর্থ বুঝতে পারিনি,” এবং তবু তিনি দ্রুত শট চালিয়ে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
ডি ককের ব্যাটিংয়ে আটটি ডট বলই ছিল, যা তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তার সেঞ্চুরি শুধুমাত্র তার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শতক, তবে ক্যারিয়ারের সর্বোত্তম ইনিংস হিসেবে স্বীকৃত। তিন বছর আগে একই ময়দানে ডি কক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪৩ রান করে ২৫৯ দলের জয় নিশ্চিত করেছিল, যা তার ঘরে ফেরার পরের প্রথম বড় পারফরম্যান্সের সূচনা করে।
ডি ককের সঙ্গে রায়ান রিকেলটন দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রান করে ১৬২ রানের জুটি গড়ে তুলেছেন। রিকেলটন ৩৬ রান করে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস সম্পন্ন করেছেন। এই অংশীদারিত্বটি দক্ষিণ আফ্রিকা একে দ্রুত রানের গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং শিকড় থেকে শীঘ্রই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের ক্যাপ্টেন ফাফ দু প্লেসি এই সংস্করণে দলের সর্বাধিক সফল ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সে তিনি ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১২,০০০ রানের মাইলস্টোন অতিক্রম করেছেন, যা তার দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের প্রমাণ। তার অবদান এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও স্কোরের বিশদ উল্লেখ করা হয়নি।
ব্রেভিসের ব্যাট নিয়ে ডি ককের মন্তব্যের পরেও তিনি বললেন, “ব্যাট ভালো, যদিও বাঁহাতির ব্যাট মানে কী বুঝতে পারিনি,” যা তার হালকা মেজাজের প্রকাশ। তবু তিনি ২২ গজের দূরত্বে ভুল না করে শট চালিয়ে ক্যারিবিয়ান বোলারদের কচুকাটা করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখনও বাকি রয়েছে, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ইতিমধ্যে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। কোচ শুক্রি কনরাডের অধীনে দলটি ধারাবাহিক পরাজয়ের পর নতুন আত্মবিশ্বাস পেয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই জয়টি দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ এটি প্রথমবারের মতো ঘরে ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। ডি ককের সেঞ্চুরি এবং রিকেলটনের স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দলকে শক্তিশালী করে তুলেছে, যা পরবর্তী ম্যাচে আরও ভাল ফলাফলের ভিত্তি তৈরি করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় দলই শীঘ্রই মাঠে ফিরে তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।



