২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) পাঁচ সদস্যের ব্যুরোর নির্বাচনে বাংলাদেশ ব্যাংককে ভাইস‑চেয়ার হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পিবিসি ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় গৃহীত হয় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা জোরদার করে।
শান্তি বিনির্মাণ কমিশন ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যার প্রধান কাজ সংঘাত‑প্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও পুনর্গঠন উদ্যোগকে সমর্থন করা। বর্তমানে ৩১টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থা সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং জাতিসংঘের অন্যান্য প্রধান সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৫ সালে পিবিসির সদস্য হিসেবে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ২০১২ ও ২০২২ সালে চেয়ার এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে ভাইস‑চেয়ার পদে দায়িত্ব পালন করেছে, যা সংস্থার মধ্যে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সূচক। এই অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব গ্রহণে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ব্যুরো নির্বাচনে মরক্কোকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। একই সময়ে জার্মানি, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে ভাইস‑চেয়ার হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। এই নির্বাচন পিবিসি ২০তম অধিবেশনের প্রথম সেশনের সূচনায় গৃহীত হয়।
ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বকারী দলও ভাইস‑চেয়ার পদে নির্বাচিত হওয়ায় সংস্থার ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় থাকে। জার্মানি এবং ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশগ্রহণ পিবিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
পিবিসি সংঘাত‑প্রবণ অঞ্চলে শান্তি রক্ষার জন্য নীতি, তহবিল এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সদস্য রাষ্ট্রের আর্থিক অবদান এবং সামরিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভাইস‑চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে দেশের অবস্থানকে উঁচু করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের কূটনৈতিক নেটওয়ার্কও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে আফ্রিকান এবং ল্যাটিন আমেরিকান অঞ্চলে শান্তি প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে শেফ ডি ক্যাবিনেট উপস্থিত ছিলেন। তিনি পিবিসি নিয়মাবলীর গুরুত্ব এবং সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধিদল অধিবেশনে একটি বিবৃতি উপস্থাপন করে, যেখানে সংস্থার সদস্যদের আস্থা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে।
একজন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাইস‑চেয়ার নির্বাচন পিবিসির বৈচিত্র্যপূর্ণ কাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে এবং এশিয়ার শান্তি উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দেবে।” তিনি আরও বলেন, এই পদে দেশের অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের এই নতুন গঠন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকান মহাদেশে চলমান সংঘাতের সমাধানে পিবিসি সদস্যদের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশগ্রহণ তা নিশ্চিত করবে।
পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে পিবিসি ২০তম অধিবেশনের দ্বিতীয় সেশন আগামী ত্রৈমাসিকে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন এবং তহবিলের বণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে এই সেশনে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।



