23 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধখাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুতে নিরাপত্তা অভিযানতে পাঁচজন সন্ত্রাসী ও তিনজন বেসামরিক নিহত

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুতে নিরাপত্তা অভিযানতে পাঁচজন সন্ত্রাসী ও তিনজন বেসামরিক নিহত

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলার ডোমেল তেহসিলে আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এক নিরাপত্তা অভিযানে পাঁচজন সন্ত্রাসী ও তিনজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানটি স্পেরকা ও কোটকা আকবর আলী খান এলাকায় তীব্র গুলিবর্ষণ ও বায়ু হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

অভিযানটি প্রাতঃকালে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়, যেখানে নিরাপত্তা কর্মীরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস করতে ২৫টিরও বেশি কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করে আকাশ থেকে হামলা চালায়। পুরো সময় জুড়ে গুলিবর্ষণ এবং গুলি বিনিময় চলতে থাকে, ফলে সন্ত্রাসী দলে অন্তত সাতজন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অপারেশনে নিহত পাঁচজন সন্ত্রাসীর মধ্যে একটি কমান্ডারও রয়েছে, যাকে জেওয়ারান বা আল‑বদরি নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বহু অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য দীর্ঘদিনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। কমান্ডারসহ বাকি চারজন সন্ত্রাসীও গুলিবর্ষণের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।

অভিযানের সময় তিনজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুপুরে একটি বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যেখানে মৃতদের নাম নঈমুল্লাহ, তার মা ও দাদি। এই তিনজনের পাশাপাশি নঈমুল্লাহর ছেলে, স্ত্রী, বোন ও এক চাচাতো ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসা সংস্থার মুখপত্র অনুযায়ী, মোট চারজন বেসামরিক আহত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন শিশু অন্তর্ভুক্ত। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ খলিফা গুল নওয়াজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয় এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

অভিযানে ব্যবহৃত বায়ু সরঞ্জামগুলোর পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর দলগুলো ভূমিতে গুলিবর্ষণ চালিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোপন ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে চলমান নজরদারি চালু রাখা হয়, যাতে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ধরা যায়।

অভিযানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন বান্নু জেলার আরপিও সাজ্জাদ খান, ডিপিও ইয়াসির আফ্রিদি এবং ১১৬ ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার উমাইর নিয়াজি। তারা মাঠে উপস্থিত থেকে পুরো অপারেশন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

অভিযানের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকায় নজরদারি চালিয়ে যায়, যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গোপনে ফিরে না পারে। তদুপরি, স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে বাড়ির ভেতরে থাকতে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়।

এই ঘটনার পূর্বে, এই সপ্তাহের শুরুতে ডোমেল এলাকায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে গুলিবর্ষণে দুইজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এছাড়া, ১৩ জানুয়ারি বান্নু জেলার গুলবাদিন লান্ডি ডাক এলাকায় সশস্ত্র হামলায় একটি শান্তি কমিটির চার সদস্যের মৃত্যু ঘটেছিল।

নিহত সন্ত্রাসী কমান্ডার আল‑বদরি বহু অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম, গুলিবর্ষণ এবং অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। তার মৃত্যুর পরও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবশিষ্ট সদস্যদের ধরতে এবং তাদের পুনরায় সংগঠিত হওয়া রোধে কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে।

অভিযনের পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় আদালত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত অগ্রসর করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments